চকরিয়ায় উত্তর বনবিভাগের বিশ্ব হাতি দিবস পালন অনুষ্ঠানে- দীপক চন্দ্র দাশ

দিদারুল আলম সিকদার, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ ১৩ আগষ্ট ২০২১ হাতি করলে সংরক্ষণ,রক্ষা পাবে সবুজ বন এই প্রতিপাদ্য কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়াস্হ ফাঁসিয়াখালী ও ফুলছড়ি রেঞ্জের সিএমসি,সিপিজির উদ্যোগে নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট(নেকম) ও ইউএসআইডিএর ইকো লাইফ প্রকল্পের সহযোগিতায় বিশ্ব হাতি দিবস-২১ ইং উদযাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার(১২আগষ্ট) সকাল ১০ টার সময় ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ চত্বর ও বিকেল ৩টার দিকে ফুলছড়ি রেঞ্জের মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান অফিস চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত – অনুষ্ঠানটি,মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের নবগঠিত কমিটির সভাপতি(সিএমসি) ও খুটাখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন সভাপতিত্বে মহিউদ্দীন বাবুলে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন,নেকম ইকোলাইফ প্রকল্পের সাইট অফিসার সিরাজুম মনির।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন,কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দীপক চন্দ্র দাস,প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম,বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,আইইউসিএন অফিসার ডঃমিজানুর রহমান,ডিপিডি অফিসার ডঃশফিকুর রহমান,এনআরএম আব্দুল কায়ূম,খুটাখালী বনবিট কর্মকর্তা মোহাম্মদুল হক,মেদাকচ্ছপিয়া বনবিট কর্মকর্তা মোঃশাহীন, সিপিজি সহ-সভাপতি সাবেক মেম্বার শফিকুর রহমান,আকতার কামাল,ইউপি সদস্যা রাজিয়া ইসলাম সহ সিপিজি,সিএমসি সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তরা বলেন, স্হলজ স্তণ্যপ্রায়ীর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাণী। হাতির দাঁত অনেক দামি বস্তু। সুতরাং কিছু প্রলোভন লোকেরা হাতিকে শিকার করে।বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বনভূমি বিলুপ্ত।এছাড়া বনবিভাগের বনভূমির বিভিন্ন স্হানে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে পাহাড় নিধন,অবৈধন গাছপালা কর্তন,অবৈধ বসতি স্হাপন, কয়লা তৈরী,নগরায়ন, রেল লাইন ইত্যাদি কারণে বন বিলুপ্তির পথে।ফলে লোকালয়ে চলে আসছে হাতি।এরপর সরকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপদ আইন ২০১২ অনুযায়ী হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্হ ব্যক্তি,ফসল,ঘরবাড়ী ইত্যাদি জন্য সরকার আর্থিক সহায়তা করছে করবে।এই আইনের অনুযায়ী হাতি হত্যারআইনতঃ দন্ডনীয় অপরাধ।এর অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা।একই অপরাধের জন্য ১২ বছর কারাদণ্ড ও ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে।
বক্তারা আরো বলেন,বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএনের সর্বশেষ ২০১৬ সালের হাতি জরিপের তথ্য মতে, দেশে এশিয়ান বন্যহাতি রয়েছে ২৬৮টি।দেশের সীমান্তবতী ৫টি বনাঞ্চলে ৯৩ পরিযায়ী হাতির বিচরণ করে।সরকারী অনুমতিক্রমে দেশে পালিত হাতি রয়েছে ১০০টি।বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ সংশোধন করে হাতির বাণিজ্যিক ব্যবহার স্হায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।সুতরাং নিরাপদ দুরত্ব ও স্বাস্হ্যবিধি মেনে পালন করেছে দিবসটি।