ঘাটাইলে আদিবাসী নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন।

মো: আল-আমীন রহমান,ঘাটাইল (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইল ঘাটাইলে চোর সন্দেহে সন্ধ্যা রানী নামে এক মধ্যবয়সী আদিবাসী নারীকে চার ঘন্টা গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মস‚চি পালন করেছে বাংলাদেশ আদিবাসী কোচ সমিতি। বুধবার (১৩ জানুয়ারী) দুপুরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের উপজেলা পরিষদের সামনে এ মাানববন্ধ কর্মস‚চি পালিত হয়। এতে সন্ধ্যা রানীর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, আদিবাসী ও এলাকাবাসী অংশ নেয়। এসময় বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রূপচান বর্মনসহ আদিবাসী নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা দ্রæত দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবী করেন। মামলা বিবরণ থেকে উল্লেখ্য, সন্ধ্যা রানীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। আসামিদের সন্তানদের সঙ্গে তার ছোট ছেলে পলাশ (৮) খেলাধুলা করত এবং ঘুড়ি উড়াত। ঘটানার ১৫ দিন আগে পলাশ ১ নং আসামি মনিরুল ইসলাম ভ‚ইয়ার বাড়ি থেকে ঘুড়ি বানানোর জন্য পত্রিকা নিয়ে আসে এবং তার সন্তানদের সঙ্গে ঘুড়ি উড়ায়। হঠাৎ মনিরুলের বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও টাকা-পয়সাসহ ম‚ল্যবান কাগজপত্র চুরি যায়। পরে গত ৩ জানুয়ারি পলাশকে তারা ধরে নিয়ে মারধর করেন এবং মালামাল চুরি করে তার মায়ের কাছে জমা দিয়েছে এ ধরণের কথা বলতে বলে। তা না হলে তার মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে পলাশ স্বীকারোক্তি দেয়। পরে গত শনিবার মামলার ৪ এবং ৫ নং আসামি সন্ধ্যা রানীর বাড়িতে ঢুকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তাকে বাড়ি থেকে ধরে এনে করিম ভ‚ইয়ার বাগানে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে ৫ আসামি মিলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গেলো রোববার রাতে সন্ধ্যা রানী বাদি হয়ে ওই গ্রামের মনিরুল ইসলাম ভ‚ইয়া (৮০),তার দুই ছেলে মোস্তফা ভ‚ইয়া (৪৫) ও সজিব ভ‚ইয়া (৪০) এবং দুই মেয়ে মোছাঃ খুকি (৩৭) ও সুমি আক্তার (৩২) নামে মামলা দায়ের করেন। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।