1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
গর্ভে বাচ্চাসহ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি! ৭০ হাজার টাকায় ধামাচাপা  - দৈনিক আমার সময়

গর্ভে বাচ্চাসহ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি! ৭০ হাজার টাকায় ধামাচাপা 

আলফাজ সরকার, গাজীপুর
    প্রকাশিত : রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
গাজীপুরের শ্রীপুরে গর্ভে বাচ্চাসহ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আজিজুল হক নামে এক কসাইয়ের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ৭০হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন স্থানীয় নেতারা। এরপর থেকে কসাই আজিজ পলাতক রয়েছেন ।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে একটি বাড়ির পেছনে কলা বাগানের পাশে পরে থাকা গরুর বাছুর দেখে স্থানীয়রা হৈ-চৈ শুরু করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এর আগে, শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর ) ভোরের দিকে উপজেলার বহেরারচালা এলাকার তাকওয়া কারখানার পিছনে ওই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ‘আজিজুল নামের এক ব্যক্তি মাঝেমধ্যেই গরু এনে এখানে জবাই করে গোশত বিক্রি করে। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালের দিকে মাংস বিক্রি করতে গরু জবাই করেন। তবে, গরুর পেট থেকে বাছুর (বাচ্চা) বের হলে ওই বাচ্চাটি কসাই একটি কলাবাগান সংলগ্ন ফেলে রাখেন। জবাই করা গরুর গর্ভ থেকে বের হওয়া বাচ্চাটি মাঠে পরে থাকতে দেখে স্থানীয়রা  হৈ চৈ শুরু হলে ওইখানে উৎসুক মানুষ ভিড় জমান। বিষয়টি জানাজানি হলে নেতারা টাকার বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়। এরপর স্থানীয়দের তোপের মুখে ভয়ে কসাই পালিয়ে যান।
সুত্র আরও জানায়,’ কসাই থেকে আদায়কৃত টাকা স্থানীয় রাজিবকে  ২০ হাজার, হাসানকে ২০ হাজার, পৌর ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক পদপ্রার্থী মফিজুলকে সাড়ে ৪ হাজার, হাফিজুলকে, সাড়ে ৪ হাজার, রুবেলকে ১ হাজার টাকা ও সাইদুলকে ৩ হাজার টাকা ভাগ করে দোন ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি আবুল ফয়েজ। এছাড়াও ৬শ টাকা চা-পানের খরচ করে ৪শ টাকা অবশিষ্ট থাকে এই নেতার কাছে।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী নয়ন মিয়া বলেন, আমি ২ হাজার টাকার মাংস কিনেছিলাম। আমি জানতাম না এটা গাভীর মাংস। দুপুরে খাওয়ার পর আমি জানতে পেরেছি গাভীর পেটে একটি ৮ মাসের বাচ্চা ছিল। বিষয়টি জানার পর আমার পরিবারের সবাই অস্বস্তি বোধ করেছি। সে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে, আমরা এর বিচার চাই।
রফিকুল ইসলাম নামের এক কারখানা শ্রমিক বলেন,’ শুক্রবারে ওই কসাই থেকে মাংস  কিনে নিয়েছিলাম। এটা জানার পর আমি মাংস ফেরত দিয়েছি। গাভীর পেটে বাচ্চা ছিল আজিজুল বিষয়টি গোপন করেছে। এর শাস্তি চাই।’
টাকা নোয়ার বিষটি স্বীকার করে পৌর ৯নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি আবুল ফয়েজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি টাকা নিয়ে নেতাদের মাঝে বন্টন করে দিয়েছি। আর এসব বিষয়ে  আমি সরল মনে কথা স্বীকার করে ভুল করেছি। আর মোবাইলে কোনো কথা বলবো না।’
এবিষয়ে রাজিব বলেন,আজিজুল নামে এক ব্যক্তি প্রতি মাসে গরু জবাই করে। গত শুক্রবারেও একটি গাভী জবাই করেছিল গাভীর পেটে নাকি বাচ্চা ছিল। এটা দুপুরে জানাজানি হয়েছে। তবে আমি কারো কাছ থেকে টাকা পরসা নেইনি।’
সাইদুল ও মফিজ উদ্দিনের সাথে কথা হলে টাকা নেয়ার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:  আশরাফ হোসেন বলেন,’ এমন ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগ দিলে গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অপরাধে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com