1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সীমান্ত দিয়ে যাচ্ছে পূণ্য,আসছে স্বর্ণ-মাদক  - দৈনিক আমার সময়

কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সীমান্ত দিয়ে যাচ্ছে পূণ্য,আসছে স্বর্ণ-মাদক 

আখতার হোসেন হিরু, টেকনাফ প্রতিনিধি 
    প্রকাশিত : সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সাথে জান্তা সরকারের মধ্য সংঘর্ষের কারণে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে জ্বালানী তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সেদেশে পাচার হচ্ছে জ্বালানি তেলও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। 
 স্থানীয়রা জানায়, দেশের পুঁজিবাজার ধ্বংস করতে,চোরাচালান কারবারিরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে কোটি কোটি টাকার জ্বালানি তেল (অকটেন)ডিজেল, কেরোসিন,খোলাতেল,পান,মরিচ,পেঁয়াজ,ভুট্রা,সরিষার
 তেল,আলো,রসুন এইসব নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য পাচার করছে প্রতিরাতে।এই পাচারকাণ্ডে জড়িত রয়েছে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও চোরাচালানকারীরা। তাছাড়া এসব পন্যের বদৌলতে মায়ানমার থেকে দেশে আসছে স্বর্ণ ও ভয়ংকর মাদক ক্রিস্টাল মেথ বা আইস,ইয়াবা ও বিভিন্ন মাদক দ্রব্য।পাচারকারীদের  সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সদস্যদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুত্রে মতে, গতকাল ২৫ ডিসেম্বর কোস্টগার্ড  টেকনাফ সদরে লম্বরি ঘাটে অভিযান চালিয়ে  মিয়ানমার পাচারকালে ১৫ বস্তা শুকনা মরিচ, ৪০ বস্তা পেয়াজ, ১বস্তা তামাক পাতা,৩ বস্তা টেস্টিং সল্ট, ১ হাজার ৮২১ লিটার অকটেন, ৩হাজার ৭৫২ লিটার সয়াবিন তেল, ১৩৬ লিটার ডিজেল ও ৫ ফিশিং বোটসহ ১৯ জন পাচারকারীকে আটক করে। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর (রবিবার) টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের খুরেরমুখ এলাকা থেকে রাত ১০টার দিকে এক অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৮শ’ লিটার জ্বালানি তেল অকটেন উদ্ধার করে বিজিবি। এছাড়া থানা পুলিশ গত ১৩ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) টেকনাফের কুরাবুইজ্জ্যা পাড়ার মেরিন ড্রাইভ থেকে মিয়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার লিটার জ্বালানি তেল (অকটেন) জব্দ করে ও এক পাচারকারীকে আটক করে।
যে-সব ঘাটে পাচার..
সরেজমিনে জানা যায়-পৌরসভার নাইট্যংপাড়া ঘাট,সদরের বড়ই তলীর ঘাট,মেরিন ড্রাইভ লম্বরীর ঘাট,তুলাতুলীর ঘাট,মহেশখালীয়া পাড়ার ঘাট,হাবির ছড়া ঘাট,রাজার ছাড়া ঘাট,সাবরাং ইউনিয়নের বাহার ছড়া ঘাট,খুরেরমুখের ঘাট,কুরাবুইজ্জ্যা পাড়ার ঘাট,শাহপরীর দ্বীপ মাঝেরপাড়ার ঘাট, হোয়াইকং উনছিপ্রাং,সাবরাং নয়াপাড়া কচুবুনিয়া ঘাট,নয়াপাড়া জিরো পয়েন্ট ও সেন্টমার্টিনের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এসব ঘাট থেকে পাচার হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী। পাচারে সাথে জড়িত রয়েছে স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেট। পাচারের সুবিধার্থে প্রস্তুতকৃত পন্য গুলো পাচারের পূর্ব মুহুর্তে পর্যন্ত পাহারা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে কয়েকজন পাহারাদার। প্রশাসনের প্রবেশ বা মানুষের চলাচলের পথে আনাগোনা আছে কিনা নিশ্চিত করে থাকে।সুযোগ বুঝে মজুদ রাখা মালামাল গুলো নৌকার ঘাট থেকে মাছ ধরতে যাওয়া ফিশিং বোটে তুলে দেয়।
এ বিষয়ে বশির উল্লাহ নামক এক নৌকার মাঝির কাছে  জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা ভাড়া হিসেবে যায়।এক চালান নিয়ে যেতে পাড়লে ৩০-৩৫ হাজার টাকা পাই।কারা করতে এসব নাম আমি বলতে পারবোনা।আমি একাজে জড়িত নয়,এতো লাখ লাখ টাকা কোথায় পাবো।যারা মাদকের সাথে জড়িত তারা একাজ করে।মায়ানমার থেকে এর বিনিময়ে আসে স্বর্ণ, মাদক।
এদিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, চট্রগ্রাম থেকে টেকনাফে ১০ টি মালবাহী ট্রাক আনলোড হতে দেখা যায় বিভিন্ন আড়তে । লালু মাঝির আড়তের সামনে ৪টি  মালবাহী ট্রাক আনলোড করতে দেখা যায়। স্বাভাবিক ভাবে এই বাজারে টেকনাফ উপজেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আসতো ৩/৪ গাড়ি।খাদ্য পণ্য গুলো পৌরসভার লামার বাজারে কয়েকটি অসাধু ব্যবসায়ীর দোকানের আরদে মজুদ রাখে।   তার মধ্যে গফুর সওদাগর প্রধান বলে জানাগেছে সন্ধ্যা পরপরই জীপ গাড়ি দিয়ে উপকূলের বিভিন্ন নৌকার ঘাটে পৌছিয়ে দেওয়া হয় পাচারকারীদের নিরাপদ স্থানে। সেকান থেকে ভাড়া করা ফিশিং বোট করে নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তে নাকং দীপ নামক খালে।সে কান থেকে মায়ানমারের বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দিন মজুরি বলেন,আমরা স্বাভাবিক ভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনলোড করতাম ২/৩ গাড়ি। কিন্তু মায়ানমারে যুদ্ধ হাওয়ায় সেই কানে খাদ্যসঙ্কট দেখা দেওয়ায়। গত মাস থেকে প্রচুর পরিমাণ ব্যবসায়ীরা আড়তে মধ্যে মজুদ রাখতেছে।আর পাচার হচ্ছে ওই মালামাল গুলো।’
গতকাল  রাত  ১২ টায় দেখা মিলে, কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ও বিভিন্ন  খোলা বাজারের দোকান থেকে নেওয়া হচ্ছে,জ্বালানী তেল,অকটেন ডিজেল,কেরোসিন সংগ্রহ করে কিছু লোকজন। এসব এসব মালামাল কোথায় নিয়ে যাওয়া হয় জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হয়নি কেউ।
তবে নাম প্রকাশে এক ব্যাক্তি বলেন, গুটি কয়েক পেট্রোল পাম্প ও দোকানির সহযোগিতায় চোরাকারবারিরা তদের কাছ জ্বালানি তৈলসহ মালামাল কিনে সুবিধা মতো মিয়ানমারে পাচার করছে। এসব ঘটনা কতৃপক্ষ জেনেও নিশ্চুপ হয়ে আছে।
জানতে চাইলে নাফ ভিউ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর দেলোয়ার হোসেন শাহেদ বলেন,আমাদের পদ্মা কোম্পানি নির্দিষ্ট পরিমাণ মাসে ১৮ হাজার লিটার তেল দেয় আমাদের।এর বাইরে বিক্রি করার সুযোগ নাই।তেল পাচারকারীরা খোলার বাজার থেকে সংগ্রহ করে।তিনি আরো বলেন,শহরের মধ্যে পাচারকারীদের তেল বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই।তা ছাড়া এতো তেল বিক্রি করার মতো আমাদের মজুদ নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন,পাচার ঠেকানোর জন্য আমাদের পুলিশ,বিজিবি,
কোস্টগার্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।তাঁদের বলে দেওয়া হয়েছে,রাতে যেন টহলে থাকে।আর যদি কোন প্রশাসন এসব কাজে সহযোগিতা করে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন টা জানিয়েছেন তিনি।
কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লুৎলাহিল মাজিদ বলেন, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে কেউ যেন মায়ানমারে  চোরার পথে অবৈভাবে পণ্য পাচার করতে না পারে বিশেষ করে নাফ নদীও সেন্টমার্টিন সীমান্তে কোস্টগার্ড  সতর্ক অবস্থানে টহল জোরদার রয়েছে ।
 গত সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) কোস্টগার্ড  টেকনাফ সদরে লম্বরি ঘাটে অভিযান চালিয়ে  মিয়ানমার পাচারকালে জ্বালানি তৈল ও খাদ্যে সামগ্রীসহ ১৯ চোরাকারবারিকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
০৪/০৩/২৪

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com