কেএসআরএম স্টীল প্লান্ট লিঃ দুইশত একত্রিশ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

জাহাঙ্গীর আলমঃ

রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রাম লোহা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে কেএসআরএম স্টীল প্লান্ট লিঃ ঘোড়ামারা, বড় কুমিরা, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম, মূসক নিবন্ধন নং-০০০০৯২৩৬২-০৫০৮, হতে এ যাবত কালের সর্ববৃহৎ মূসক ফাঁকির উদঘাটন করেছেন ।

কেএসআরএম স্টীলের রাজস্ব ফাঁকি পরিমাণ ২৩১,১৬,৮৪,৪৮০.৮২ (দুইশত একত্রিশ কোটি ষোল লক্ষ চুরাশি হাজার চারশত আশি দশমিক আট দুই) টাকা।

জানাযায় গোপন সংবাদ ছিল কেএসআরএম নামক প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে যথাযথভাবে মূসক পরিশোধ করছেন না এবং নিয়মিতভাবে মূসক ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন।

কাস্টমস্,এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, চট্টগ্রামরে কমিশনারের নির্দেশে চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের একটি নিবারক দল গত ২২ জুলাই প্রতিষ্ঠানের অঙ্গনে বিধি মোতাবেক তল্লাশি পরিচালনা করেন। তল্লাশি পরিচালনাকালে সঠিক করদায়িতা নিরূপণের লক্ষ্যে বেশ কিছু সংখ্যক বাণিজ্যিক দলিলাদি এবং দুটি সিপিইউ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত দলিলাদি হতে বেরিয়ে আসে বিশাল অংকের মূসক ফাঁকির তথ্য। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের জুলাই মাস হতে মে ২০২১ মাস পর্যন্ত মোট ১৮৭৪৩৭৬.২৪ মে. টন এম. এস. প্রোডাক্ট সরবরাহ করেন,যার বিপরীতে মোট ১৮৮,৭১,৪৬,৫১৪.০০/ টাকা মূসক পরিশোধ করার বিধান ছিল। কিন্তু তা না করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করেন ১০৩,৪২,৩০,৮১৭.০০ (একশত তিন কোটি বিয়াল্লিশ লক্ষ ত্রিশ হাজার আটশত সতের) টাকা। প্রতিষ্ঠানটির নিকট সরকারের মূসক বাবদ পাওনা দাঁড়ায় ৮৫,২৯,১৫,৬৯৫.০০(পঁচাশি কোটি ঊনত্রিশ লক্ষ পনেরো হাজার ছয়শত পঁচানব্বই) টাকা।

কেএসআরএম স্টীল প্লান্ট লিঃ প্রতিষ্ঠানটি একটি উৎসে মূসক কর্তনকারী সত্তা কাঁচামাল ক্রয়সহ সকল কেনাকাটার বিপরীতে বিধি মোতাবেক মূসক কর্তন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানুয়ারি/২০১৭ হতে মে/২০২১ মাস পর্যন্ত সমস্ত ক্রয়ের বিপরীতে উৎসে মূসক কর্তনের কোনো দলিলাদি তাদের রিটার্ণে প্রদর্শন করেননি। উক্ত সময়ে শুধুমাত্র কাঁচামাল ক্রয় করেন ১৯৯৭৮৮৭.৩৩/ মে. টন। যার বিপরীতে প্রদেয় উৎসে মূসকের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪৫,৮৭,৬৮,৭৮৪.৯২ / (একশত পঁয়তাল্লিশ কোটি সাতাশি লক্ষ আটষট্টি হাজার সাতশত চুরাশি দশমিক নয় দুই) টাকা । যা অপরিশোধিত রয়েছে বলে জানা গেছে ।

সরবরাহের বিপরীতে অপরিশোধিত ৮৫,২৯,১৫,৬৯৫ টাকা এবং উৎসে মূসক বাবদ অপরিশোধিত ১৪৫,৮৭,৬৮,৭৮৪.৯২ টাকা । মোট ২৩১,১৬,৮৪,৪৮০.৮২ (দুইশত একত্রিশ কোটি ষোল লক্ষ চুরাশি হাজার চারশত আশি দশমিক আট দুই) টাকা ফাঁকির তথ্য তদন্তে বেরিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই মূসক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে, চট্টগ্রামের কমিশনার, মোহাম্মদ আকবর হোসেন জানান যে, কেএসআরএম নামক প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে যথাযথভাবে মূসক পরিশোধ করছেননা এবং নিয়মিতভাবে মূসক ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে গোপন সংবাদ পেয়েছি। যে সূত্র ধরেই বিধি মোতাবেক আমাদের নিবারক দলের মাধ্যমে তল্লাশি এবং তদন্তে বিশাল ফাঁকি বের হয়ে এসেছে। প্রতিষ্ঠানকে শিগগিরই কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হবে এবং তারা তাদের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি আরো বলেন,এক্ষেত্রে ফাঁকিকৃত রাজস্বের সমান পরিমাণ জরিমানা এবং প্রযোজ্য সুদ পরিশোধ করতে হবে। ফাঁকিকৃত অর্থ তাদের সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো ধরণের শৈথল্য প্রদর্শন করা হবে না। উল্লেখ্য,গত কয়েক মাসে চট্টগ্রাম ভ্যাট এ জাতীয় বেশ কিছু অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। কমিশনার আরো জানান যে, যারা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে এ জাতীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে।