জানা যায়, মহাসড়কের একপাশ বন্ধ করে রাস্তার উপর কলার গাদি করে রাখা হয়। দিনভর চলে ট্রাক, ট্রলি, নসিমন ও ভ্যানে করে কলা লোড ও আনলোড। রাস্তার ধারে কলার পাতা পড়ে থাকে। এগুলোর পচন ধরে পথচারীদের দুর্ভোগের কোন সীমা নেই। রাস্তায় চলাচলের জন্য কলার হাটের জন্য মহাসড়কের রাস্তা দুইবার পার হতে হয়। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চাদের সাথে রাস্তা পার হতে হয়। অভিযোগ উঠেছে এই হাটের ফলে ছোট বড় এক্সিডেন্ট লেগেই রয়েছে। অথচ মহাসড়কের পাশেই ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে মহাসড়কের আইন। অনেকে অভিযোগ করেছেন এই আইন ঝুলেই রয়েছে কার্যকর হতে দেখিনি কখনো।
“মহাসড়ক আইন-২০২১” এর ৯ এর (১২) ধারা অনুসারে সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত, মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ রেখার মধ্যে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ, হাট-বাজার বসানো বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মহাসড়কের কোনো অংশ ব্যবহার করা যাবে না। এসব ধারা লঙ্ঘন করিলে অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং শাস্তিসহ বিভিন্ন অথ দন্ড রয়েছে। অথচ কুষ্টিয়া মধুপুর কলার হাটে এখন পর্যন্ত সড়ক বিভাগ সাইনবোর্ডে সীমাবদ্ধ। এ আইনের প্রয়োগ চোখে পড়েনি। আর এই সুযোগে কিছু দখলবাজ মহসড়কের গা ঘেঁষে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। আর কলার হাট তো মহাসড়কের একপাশ দখল করে নিয়েছে। এতকিছুর পরও এখানে নেই আইনের কোন প্রয়োগ।
কয়েকজন পথচারীর সাথে কথা বললে তারা জানান, হাইওয়ের একপাশ দখল করে কলার হাট বসায় আমরা বাধ্য হয়ে জীবন হাতে নিয়ে অন্যপাশের মহাসড়কের উপর দিয়ে রাস্তা পারাপার হয়।
স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এক পাশ দখল করে এই কলারহাট চলছে। যাদের এগুলো দেখার দায়িত্ব তারা এমন ভাব করে যেন তারা কিছুই জানেনা, বহুবার এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা বিভিন্ন দরবারে গিয়েছি। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। এইসব যেন দেখার কেউ নেই।
এই কলারহাট এর ইজারা পেয়েছে নজরুল নামের একজন। জানা যায়, হাটের মোট জায়গা ১১ শতাংশ।আরো ২ লক্ষ টাকা দিয়ে জায়গা লীজ নিয়ে হাট বর্ধিত করেছে। ৪৬ লক্ষ টাকায় হাটটি পেয়েছে। ভ্যাট ট্যাস্ক দিয়ে ৬১ লক্ষ টাকা পড়েছে। ইজারাদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
আব্দালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলি হায়দার স্বপন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, হ্যাঁ কলার হাটের জন্য রাস্তাটি ব্লক হয়ে যায়। আসলে আমি চেয়ারম্যান হিসেবে পদাধিকার বলে ইউনিয়নের সব হাটের সভাপতি। হাইওয়ে পুলিশ ও ইউএনও এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে এগুলো সমাধান করতে হবে। আমি যথেষ্ট চেষ্টা করেছি আমার আসলে কিছু করার নাই। যেসব দালাল কাজ করছে তাদের পাওয়ার অনেক বেশি। প্রকাশ্যে আইন ভঙ্গ করছে। হাইওয়ের উপর একটি বাজার বসছে যার ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ইউএনও এসবই জানে।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়ন্ত দাশ বলেন, আমি তো নতুন এসেছি এখানে, এগুলো তো আগে শুনিনি, আজকে আমি এগুলো শুনেছি। কাল যেয়ে দেখব। এই বিষয়টি নিয়ে ওদের সঙ্গে কথা বলে আসবো।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইউএনও বলেন, কেউ অভিযোগ করলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply