আসন্ন ঈদুল আজহা কে সামনে রেখে জমে উঠেছে পশু কেনা-বেচা। কুষ্টিয়ার কোরবানির পশুর হাটগুলো ব্যাস্ত হয়ে উঠেছে ক্রেতা, বিক্রেতার ভিড়ে।
প্রতিদিন হাজার হাজার পশু কেনা-বেচা চলছে জেলার ৬টি উপজেলার হাটে। হাটের বাইরেও চলছে কেনা-বেচা।
ক্রেতারা একদিকে পছন্দের পশু কিনতে ব্যস্ত, অন্যদিকে বিক্রেতাও চাচ্ছেন তারা যেন তাদের পশুগুলো ঈদের আগেই বিক্রি করে দিতে পারেন।
এরইমধ্যে নানা আকৃতির বড় গরুগুলোর বাহারি নাম নজর কেড়েছে সবার। প্রতিবছর এসময় ওজন ও দামে আলোচনায় আসে বাহারি নামের গরু। কুষ্টিয়ায় এবারে কোরবানির বাজারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার গবাদিপশু । যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বিক্রি হয়েছে।
এবার দুই হাজার কোটি টাকার পশু বিক্রির আশা করছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
প্রতিবারের মতো এবারও এ জেলায় দেশি পদ্ধতিতে গরু ও ছাগল পালন করা হয়েছে। প্রান্তিক চাষি কিংবা খামারিরা ধারদেনা করে বছর শেষে বাড়তি কিছু সঞ্চয়ের আশায় এসব পশু লালন-পালন করে থাকেন। কিন্তু এ বছর পশু খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় লাভ নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় খামারিরা।
এদিকে ক্রেতারা বলছেন, কোরবানি উপযোগী গরু কিংবা ছাগলের বাজার মূল্য গত বছরের তুলনায় এবার ঊর্দ্ধমুখী। মোট পশুর ৩০ শতাংশ হলেই জেলার চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে; বাকি ৭০ শতাংশ জেলার বাইরে বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হয়, বলেন ব্যাবসায়ীরা।
তবে দেশীও পদ্ধতিতে লালন করা হয় বলে কুষ্টিয়ার গবাদিপশুর সারা দেশে সুনাম থাকায়, দেশজুড়ে এর চাহিদা ব্যাপক।
কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় কোরবানির বাজারে বিক্রি উপযোগী ১ লাখ ৭৮ হাজার গবাদিপশু রয়েছে; যার মধ্যে ৭০ হাজার ছাগল ও ভেড়া। এসব পশুর বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলার কাসিমপুর গ্রামের কৃষক বাদশা এর স্ত্রী হাফিজা খাতুন বলেন, “প্রতি বছরের মত এবারও তিনটি দেশি জাতের ষাঁড় পালন করেছি। অন্যান্য বছর ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের ব্যাপারিরা বাড়ি থেকে গরু কিনে নিয়ে গেছেন। এবার এখনও আসেনি ।
এরই মধ্যে গো-খাদ্যের দোকানে অনেক টাকা বাকি হয়েছে। গরু বিক্রি হলে সেই টাকা দিয়ে শোধ করব। যে টাকা থাকবে তা দিয়ে আবার ছোট কয়েকটা গরু কিনলে আর কিছুই থাকবে না।”
তবে খামারিদের দাবি অনুযায়ী, এ বছর বিক্রয়যোগ্য পশুর উচ্চ বাজার মূল্য পেলেও এর সিংহভাগ টাকা খরচ হয়েছে লালন-পালনে। এ ক্ষেত্রে খামারিদের ক্রয় করা দানা জাতীয় খাদ্যের ব্যবহার কমিয়ে ঘাস জাতীয় খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান।
Leave a Reply