কারো গ্রুপ সেলফিতে থাকলেই কি দোষী?

জাহাঙ্গীর আলম,বিশেষ প্রতিনিধিঃ সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত বিষয় ‘পাপিয়া কাণ্ড’। চাঁদাবাজি, যৌন ব্যবসা ও নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেফতার করা হয়েছে যুব মহিলা লীগ নরসিংদী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়াকে। পাপিয়ার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ তার সাথে জড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তিকে। কিন্তু ডিএমপি এ বিষয়ে কাউকে মনগড়া বক্তব্য না দিতে আহবান জানিয়েছে। ডিএমপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে- তদন্তাধীন মামলার বিষয়ে রিমান্ডে থাকা অভিযুক্তদের সম্পর্কে মনগড়া তথ্য প্রচারের ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তার উপর মনস্তাত্বিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়। যার ফলে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত ব্যাহত ও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ‘পেশাদারী ও দায়িত্বশীল আচরণ’ করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে। মহানগর পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তদেরকে ডিবি হেফাজতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের নিকট থেকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিচার্য বিষয়সমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে ‘সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য’ দেওয়া হয়নি দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি কিছুকিছু গণমাধ্যমে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সাথে কোনো রকম আলাপ-আলোচনা না করে তদন্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত কথিত তথ্য হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নাম ও পরিচয় প্রকাশ ও প্রচার করছে। যার সাথে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা নেই কিংবা তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের সাথে কোনো সামঞ্জস্য নেই। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা গত মঙ্গলবার বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অভিযোগ ও মামলা সংক্রান্ত কিছু ভিডিও এবং কিছু তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা প্রতিটি বিষয়ই আমলে নিয়েছি। প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্ব সহকারে আমরা খতিয়ে দেখছি। এর মধ্যে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ও রেলিভেন্ট এলিমেন্ট আমরা পিক করছি। সবকিছু সাপেক্ষেই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ লোকজন ও কতিপয় সংবাদ মাধ্যম তাদের মনগড়া বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে হেনস্থা করছেন অনেককেই। গত কিছুদিন আগে কিছু গণমাধ্যমে চট্টগ্রম মহানগর যুব মহিলালীগের যুগ্ন আহ্ববায়ক,চট্টগ্রাম কারাগারের কারা পরিদর্শক মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতির নামে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রচার করেন বলে দাবী করেন ,মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি। গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার তার সঙ্গে পাপিয়ার অপকর্মের সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান দৈনিক আমার সময়কে। তিনি এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করে বলেন তার সম্পৃক্ততা প্রমাণ দেওয়ার জন্য । তিনি আরো বলেন মনগড়াভাবে কেউ যেন তাকে হেনস্থা না করে । এটা আমার বিরুদ্ধে কেউ কতিপয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষডযন্ত্র করতেছে ।।

আরেকটি বিষয় নিয়ে খুবই মাতম করছে একটা গোষ্ঠী। তা হলো- পাপিয়ার সঙ্গে নানা অনুষ্ঠানে সেলফিতে মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতির ও অভিযুক্ত পাপিয়া। একজন নেত্রীর সঙ্গে তার কমিটিভুক্ত বা তার দলভুক্ত অথবা সাধারণ যে কারও সেলফি থাকতেই পারে। যেহেতু একই সংগঠন করে তারা সেক্ষেত্রে সেলফি তো থাকতেই পারে। বরং না থাকাটা অস্বাভাবিক। ইতোপূর্বে আমরা দেখেছি জঙ্গির সঙ্গে নায়ক ফেরদৌসের সেলফি নিয়ে তুলকালাম। একজন সেলিব্রিটির সঙ্গে যে কারও সেলফি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। একজন মানুষ সেলফি তুলতে চাইলে তাকে কি না করা যায়? আর কেউ কি জেনেশুনে কোন অপরাধীর সাথে সেলফি তুলবে? মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি জানতো না বলেই তার সঙ্গে সেলফি তুলেছে। এটাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে যদি বলি- একটা কমিটি শুধু কেন্দ্র থেকে একজন চাইলেই অনুমোদন হয় না। স্থানীয় নেতাদের সিলেকশন, এমপিদের সিলেকশন, কোন কোন ক্ষেত্রে মন্ত্রীরা কমিটির জন্য সুপারিশ করে থাকেন। আর যেহেতু দলের কর্মী সেহেতু কমিটি অনুমোদন দিবেই। তার তো সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই জেলা কমিটি অনুমোদন দেয়ার। তাহলে এ বিষয়ে মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতিকে কেন জড়ানো হচ্ছে!

এ নিয়ে দীর্ঘ সময় আমার সময়কে তার বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি- ‘‘আমি না জেনে সংগঠনের মেয়ে মনে করে যার সাথেই ছবি তুলে থাকি এর মধ্যে যদি কেউ খারাপ থাকে তাদের কে গ্রেফতার করা হোক। সবার সাথে ছবি থাকা অপরাধ না আমার সাথে ছবি তোলা অপরাধ। আমি ছবি তোলার জন্য ক্ষমা প্রার্থী সে যেই হোক। আমি যদি কোন অপকর্মে থাকি তবেই কেবল আমি দায়িত্ব নিবো। আমার মত রাজপথের সৈনিক আজ অপমানিত। সারাদিন একেক জন একেক কথা বলে। আমি দোষী হলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে। পাপিয়া অপরাধ করেছে আমি কি তার সুপারিশ করেছি? কর্মী যদি খারাপ হয় প্রমান থাকে তাকে গ্রেফতার করুক।

সন্তান খারাপ হলেও তো বাপ মাকে এত জবাবদিহি করতে হয় না, সব জেলার সব এলাকার মেয়েরা আসে বলে আপা আপনার সাথে ছবি তুলবো। আমার সাথে অনেক সাংবাদিক বোনদের অনেক অন্তরঙ্গ ছবি আছে এর জন্য আমি অপরাধ করলে কি সে দায়ী থাকবে। এমপি দুর্নীতি করলে ও তো এমপিই জেলে যাবে তার সাথে চলা কর্মী কি জেলে যাবে, যদি অপরাধে সম্পৃক্ত না থাকে। আমার একটা পরিবার আছে, সন্তান আছে এত কেনো আমাকে নিয়ে মিথ্যাচার। আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে অনুরোধ সত্য সামনে আনুন ,একটা গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আমার বিরুদ্ধে লিপ্ত।

কত মানুষের সাথে ছবি তুলে এর জন্য দায়ী না থাকলেও তাকে জবাবদিহি করতে হবে। আমি নারী সাংবাদিকদের বলবো একটু সত্যি আওয়াজ তুলুন একজন নারী সে একজন নারী না কেবল সে একজন মা ও সেটা তো তাদের ভাবার কথা তাই আপনারা একটু সত্যিটা দেখুন।