গাজীপুরের শ্রীপুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে এএ ইয়ার্ন মিলস্ লিমিটেড নামক একটি কারখানা। বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনে জেরে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এদিকে বন্ধের নোটিশ পেয়ে এর প্রতিবাদে কারখানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে এর শ্রমিকরা।
সোমবার (২৭ আগস্ট) সকালের দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের নগরহাওলা গ্রামের এএ ইয়ার্ন মিলস্ লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন।
শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে ২৩ তারিখ কারখানার প্রায় সকল শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এরপর পুলিশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে বেতন পরিশোধের আশ্বাসে আন্দোলন বন্ধ করা হয়। কারখানা কতৃর্পক্ষ জানিয়েছিলো যে সোমবার থেকে পুরোদমে কারখানা চালু হবে। কিন্তু আজ সোমবার কর্মস্থলে এসে দেখেন মূল ফটকের সামনে কারখানা অনির্দিষ্টকালের বন্ধের নোটিশ। এরফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে ওই কারখানার প্রায় তিন হাজার শ্রমিক।
আমান মিয়া নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘দীর্ঘ বছর যাবৎ এই কারখানায় শ্রমিকের কাজ করছি। কয়েকমাস যাবৎ বেতন পরিশোধ নিয়ে টালবাহানা করছে। হঠাৎ করে আন্দোলনের জেরে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে আমাদের সাথে অন্যায় করেছে। এর বিচার চাই।’
মারুফ নামের আরেক শ্রমিক বলেন, ‘আমাদের বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য দাবিদাওয়া না পরিশোধ করে কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। যা শ্রমিকদের সঙ্গে অনেক প্রতারণা করা হয়েছে।’
আমেনা, খোদেজা ও শিল্পী আক্তার নামে শ্রমিকরা বলেন,’ যৌবনের ৯ বছর এই কারখানায় কর্মরত। শেষ বয়সে এসে চাকুরী হারাতে হবে..? দেশে কি আইন নাই.?। এই বয়সে আমাদেরকে অন্য কোনো কারখানায় কি চাকুরী দিবে..? এখানে আমাদের বেতনভাতা কোন কিছু পরিশোধ না করেই হঠাৎ বন্ধের নোটিশ। গত ২৩ তারিখ আমরা আমাদের ন্যায্য দাবীর জন্য আন্দোলন করেছি। সেসময় অনেক শ্রমিক পুলিশের লাঠিপেটা টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট খেয়েছে। আমাদের কি অপরাধ?
এএ ইয়ার্ন মিলস্ লিমিটেড কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, ২৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা কারখানার গুরুত্বপূর্ণ মেশিন ভাংচুর করা হয়েছে যার দরুন কারখানা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই, মালিক পক্ষ কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে মোতাবেক বাংলাদেশ শ্রম আইন ৬ এর ধারা ১৩ (১) অনুসারে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে।’
শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ বলেন,’ শ্রমিক আন্দোলনের খবর পেয়ে সকাল থেকেই কারখানার নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশের সদস্যরা রয়েছে। শ্রমিকরা কারখানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা?(ওসি) মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন,’ খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। কোনো প্রকার অস্বাভাবিক পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।’
Leave a Reply