করোনায় ভালো নেই হাফিজিয়া মাদ্রাসা, পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষানবিশ হাফেজরা!

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) থেকেঃ–করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা দেশের মতো গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের কওমি মাদ্রাসা (নুরানি, হেফজ ও কিতাব বিভাগ) দীর্ঘদিন বন্ধের পর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হিফজখানা পূনরায় চালুর নির্দেশনা দিলেও ভালো নেই সেখানে কর্মরত শিক্ষক/কর্মচারীরা। মাসিক সন্মানি না পেয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করলেও সহায়তা দিয়ে এগিয়ে আসেনি কেউ। অর্থকষ্টে জীবন-যাপন করা শিক্ষকরা রেশন কার্ড ও নগদ টাকা প্রনোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

এদিকে, একটানা দীর্ঘদিন মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় শিক্ষানবিশ হাফেজদের বাসায় দাওরের (চর্চার) পরিবেশ না থাকায় পূর্বের পড়া ভুলে যাওয়ায় নতুন করে শুরু করতে হবে বলে জানিয়েছেন হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকগন।

জানা যায়, বেফাকুল মাদারিসিল অ্যারাবিয়া সংগঠনের আওতাধীন ১৩৯ টিসহ এ উপজেলায় ২০০ টিরও অধিক হাফিজিয়া মাদ্রাসা রয়েছে। যেখানে ২ হাজার শিক্ষক প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে থাকেন।

শ্রীপুর বাজার মাদ্রাসাতুর রহমান ও এতিমখানার মুহতামিম মাওলানা মাহমুদুল হাসান সজল জানান, করোনা কালিন বন্ধে সবচেয়ে অসুবিধে পড়তে হয়েছে এতিম শিশুদের। তাদের কেউ স্বজনদের বাড়ীতে, আবার কেউ মাদ্রাসার কোন শিক্ষকের কাছে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এছাড়াও, ৪ মাসের ছুটি একজন ছাত্রের জন্য কমপক্ষে ১০ মাস পিছনে পড়তে হবে। কেননা, অনেকেই বাড়ীতে নিজ উদ্যোগে দাওর না থাকায় পূর্বের সব পড়াই ভুলে গিয়েছে।

পৌর এলাকার কেওয়া বাজার মারকাজুল কুরআন মাদ্রাসার মুহতামিম ও প্রধান শিক্ষক
হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আতাউল্লাহ শ্রীপুরী জানান, যারা নজরানা শেষ করে হেফজ শুরু করেছিলেন তারাই মূলত পিছিয়ে পড়েছেন। ছুটিতে হয়তো বাড়ীতে কিছু সময়ের জন্য তারা কোরআন তেলাওয়াত করেছেন। কিন্তু মাদ্রাসার পরিবেশে না থাকায় তাদের আগের গতিতে ফিরে আসতে আরও ৪ মাস সময় লাগতে পারে । তবে, যেসকল শিক্ষার্থীরা ২০ পারা বা তার চেয়ে বেশি আয়ত্ত করেছিলেন তাদের তেমন কোন সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া-এর শ্রীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি কাজী মঈন উদ্দিন আহমাদ জানান, লক ডাউনে এসকল শিক্ষকরা অর্থ কষ্টে দিনাতিপাত করলেও পেশাগত লজ্জায় ত্রাণের জন্য হাত পাততে পারেনি। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থ সহায়তা দিলেও তা খুবই সামান্য। সারাদেশের কওমি মাদ্রাসাসহ এ উপজেলার ২ হাজার শিক্ষকদের আর্থিক অনুদানের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই।

উল্লেখ্য, হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং হিফজখানার শিক্ষা কার্যক্রমে নিরবিচ্ছিন্ন অধ্যবসায়ের কথা উল্লেখ করে এর কার্যক্রম চালু করতে শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতেই বুধবার সিনিয়র সহকারী সচিব মুহা. আবুল কালাম আযাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ১২ জুলাই হতে হাফিজিয়া মাদ্রাসা খোলার কথা জানায় ধর্ম মন্ত্রণালয়।