করোনায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের পরিবারে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ!

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকেঃ–করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা দেশের মতো গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের কিন্ডার গার্টেন (কেজি স্কুল) বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন স্কুলগুলোর শিক্ষক/কর্মচারীরা। মাসিক বেতন না পেয়ে দিশেহারা শিক্ষকদের পরিবারে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। কারণ তাদের পরিবার চলে শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায়। অস্বচ্ছল পরিবারের এসব শিক্ষকদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে না আসায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। অর্থকষ্টে জীবন-যাপন করা শিক্ষকরা রেশন কার্ড ও নগদ টাকা প্রনোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

জানা যায়, এ উপজেলা ৩০৪ টি কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুলে কর্মরত রয়েছেন ১৪ হাজার ২৫০ জন শিক্ষক/কর্মচারী। এসকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে থাকেন।

এই কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের বেতন ও টিউশন ফি দিয়েই চলে। শিক্ষার্থীদের বেতনেই সকল শিক্ষক/কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হয়। কিন্তু করোনায় সরকারি আদেশে গত ১৮ মার্চ হতে সকল কিন্ডার গার্টেন স্কুল বন্ধ থাকায় কোনো বেতন নেই শিক্ষকদের। টিউশন ফি বন্ধ থাকায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাসিক সম্মানীও বন্ধ।

স্কুল ভবন ভাড়া নিয়ে পরিচালিত পৌর এলাকার আনন্দ বিদ্যাপীঠের প্রধান ডালিয়া আফরিন জানান , ১ লাখ টাকা এডভান্স দিয়ে প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে রয়েছি আমরা।

শ্রীপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান বাদল জানান, অর্থ না থাকলেও শিক্ষক পরিচিতির কারণে আমরা অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে পারি না। এখন আমাদের অনেকের চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। চলমান দুর্যোগে শ্রীপুরের কেজি স্কুলসমূহের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি সহায়তার জন্য আমরা আবেদন জানাচ্ছি।

উপজেলা কিন্ডার গার্টেন স্কুল এসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল খোকা জানান, লক ডাউনে বাইরে যাওয়া বন্ধ হওয়ায় অনেক শিক্ষকের টিউশনি করারও সুযোগ নেই। শিক্ষক পেশায় থাকায় সমাজে সম্মানীয় হওয়ার কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ গ্রহণও করতে পারছেন না অনেকেই। তাই সরকারের কাছে রেশন কার্ড ও নগদ অর্থ প্রনোদনা প্রদানের দাবি করছি।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান দৈনিক আমার সময়-কে বলেন, করোনা মুহূর্তে কেজি স্কুল গুলোর সাথে জড়িত সকলেই দুরাবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। ইতোমধ্যে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ উপজেলার ৩০৪টি কেজি স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীর নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে । সরকারি প্রণোদনার ঘোষণা আসলে তা সকলের মাঝে বিতরণ করা হবে।