করোনাভাইরাসের প্রভাবে মহান স্বাধীনতা দিবসের নেই কোনো আনুষ্ঠানিকতা

এইচ এম মেহেদী হাসান: ১৯৭১ সালের পরে এই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া পালিত হলো মহান স্বাধীনতা দিবস। মহান সৃষ্টির নিয়মেই পালিত হলো স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা, সেখানে নেই কোনো মানুষের খবরদারি। কে জানতো অদৃশ্যের ইশারায় পালিত হবে পিতা মুজিবের আজন্মের স্বপ্নের স্বাধীনতার ঊনপঞ্চাশতম স্বাধীনতা দিবস। চারপাশে সুনসান, নেই কোনো উচ্ছ্বাস, নেই কোনো বিহুগলের সুর, নেই আতশবাজির ঝলকানি। সবই যেনো একজনের ইশারায় চলছে, আরও কতোদিন চলবে কেউ জানেনা! সেই গণচীনের উহান থেকে শুরু, থামার কোনো লক্ষণ নেই। হয়তো যখন তাঁর ইচ্ছে হবে ইতি টানবেন। কারণ পৃথিবীর মানুষ এখানে অসহায়। করোনাভাইরাস(কোভিড-১৯) ইতিমধ্যে দখল করে নিয়েছে প্রায় একশত সত্তর টি দেশ। এর শেষ শুধু প্রভু-ই জানেন। করোনার কাছেই আসছি,তবে ইতিহাসের একটু পিছনে ঘুরে আসছি।
১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি অর্থাৎ ১৯৫৮ সালের পর প্রথম রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু প্রথম দিন থেকেই ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন। ১৯৭০ সালের ৪ জুন নির্বাচনকে সামনে রেখে মতিঝিল ইডেন হোটেল প্রাঙ্গনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৭০ এর ৫ জুন পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচনী এলাকা বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে ৩১০ টি আসন আর জাতীয় পরিষদে ১৬৯টি আসন নির্দিষ্ট করা হয়। ১৯৭০ সালের ১৫ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন যথাক্রমে ৭ ও ১৭ ডিসেম্বর। ১৯৭০ সালের ৮ অক্টোবর ইসলামবাদ থেকে ১৯টি রাজনৈতিক দলের প্রতীক ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। স্মরণীয় যে,১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিলো নৌকা। ১৯৭০ সালের ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু বেতার ও টেলিভিশনে নির্বাচনী ভাষণ দেন। তিনি বলেন,’প্রতিকূল অবস্হার মধ্যে দিয়েই আওয়ামী লীগের জন্ম। তার সংকটময় পরিস্হিতির মধ্যে দিয়েই আওয়ামী লীগের বিকাশ ‘।তিনি দেশবাসীর কাছে ছয় দফার পক্ষে ম্যান্ডেট চান। ১২ নভেম্বর পূর্ব বাংলায় ভয়াবহ ঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে ১০/১২ লাখ মানুষ মারা যান। বঙ্গবন্ধু তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত করে ত্রাণ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি এই অঞ্চলের জনগণের প্রতি চরম উদাসীনতা তুলে ধরেন। এই সময় ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেনো ‘শিরোনামে তথ্য সম্বলিত একটি পোষ্টার জাতিকে নাড়া দেয়। ৭ ডিসেম্বর বন্যা-দূর্গত এলাকা বাদে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তানের পিপলস পার্টি পায় ৮৮টি আসন। ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান ২৯৮টি আসন লাভ করে।
১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সকল নির্বাচিত সদস্য ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রনয়ণ তথা ৬ দফা বাস্তবায়নের শপথ গ্রহণ করেন। ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ এই রবীন্দ্র সংগীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা ‘ শ্লোগান দিয়ে বাঙালি জাতির মুক্তির সংকল্প ব্যক্ত করেন। শপথ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সংগীতের পর ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানটি পরিবেশিত হয়। ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিন দফা বৈঠক করেন। ৪দিন পর ফিরে আসার সময় তিনি বলেন ‘শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ‘।
২৭ জানুয়ারি জুলফিকার আলী ভূট্রো ঢাকা এসে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কয়েকদফা আলোচনা করেন। কিন্তু ভূট্রোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি ঘোষণায় বলা হয় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করেছেন। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হয় হোটেল পূর্বানীতে। ঐ দিনই আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। সারা বাংলা ক্ষোভে ফেটে পরে। বিক্ষুব্ধ জনসমুদ্রে পরিণত হয় রাজপথ। বঙ্গবন্ধু এটাকে শাসকদের আরেকটি চক্রান্ত বলে চিহ্নিত করেন। তিনি ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়। উত্তাল জনস্রোতে ঢাকা পরিণত হয় এক বিক্ষোভের শহরে। জান্তা সরকার ঢাকা শহরের পৌর এলাকায় সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত কারফিউ জারী করেন। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বিক্ষুব্ধ জনতা কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। সামরিক জান্তার গুলিতে মারা যান ৩জন,আহত হন কমপক্ষে ৬০জন। এই সময় পুরো দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক যুগান্তকারী ভাষণে ঘোষণা করেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণে স্পষ্ট হয়ে যায় স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যত। সারাদেশে শুরু হয় এক অভূতপূর্ব অসহযোগ আন্দোলন।১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ বিস্ফোরণমুখ বাংলাদেশে আসেন ইয়াহিয়া খান। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার দীর্ঘ আলোচনা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু তাঁর গাড়িতে কালো পতাকা উড়িয়ে হেয়ার রোডে প্রেসিডেন্ট ভবনে আলোচনার জন্য যান। ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম জন্মদিন। এই দিন ইয়াহিয়া খানের দ্বিতীয় দফা আলোচনা থেকে ফিরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেন ‘এদেশে জন্ম দিনই বা কি আর মৃত্যু দিনই বা কি, আমার জনগণই আমার জীবন ‘।
১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষণা দেন। সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি ভবনে ‘বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পৃথিবীর ইতিহাসে এক নৃশংসতম কালো রাত্রি।

এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে মানুষের ঢল নামে। সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ইয়াহিয়া ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে শুরু হয় ‘অপারেশন সার্চ লাইট’। ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ১২ টা ২০ মিনিটে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কতৃক গ্রেফতার হবার আগেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাবার্তা ওয়ারলেসযোগে চট্রগ্রামের জহুরুল আহমেদ চৌধুরীকে প্রেরণ করেন। চট্রগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বানী স্বকন্ঠে প্রচার করেন। পরে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে করাচীতে নিয়ে যাওয়া হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আজ করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত। মহান স্বাধীনতা দিবসের দিনে কোনো মানুষ ঘরের বাহিরে নেই,নেই কোনো উচ্ছ্বাস। এই মহামারী বৈশ্বিক সংকট আজ পিতা মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ জবুথবু। কিভাবে এই সংকট থেকে মানুষ মুক্তি পাবে, সেটাই এখন চিন্তার বিষয়। মানুষের মনের ভিতরের দহন ও কপালে চিন্তার ভাঁজ আজ বেশি প্রকাশিত হচ্ছে। কতোটুকু সক্ষমতা আছে আমাদের করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার, যেখানে গণচীন, ইতালি,স্পেন,যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া,ফান্স,দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান,সিঙ্গাপুর, হংকং,
ভারতের মতো রাষ্ট্র হিমশিম খাচ্ছে। কোন দিশা পাচ্ছে না।প্রতিদিনই কোনো না কোনো দেশ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হচ্ছে। যেহেতু কোভিড-১৯ এর কোনো প্রতিষেধক বা প্রতিরোধের কোনো ভ্যাকসিন নেই। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্হাও যেখানে নিরুপায়। শুধুই সংক্রমণ ঠেকাতে পারবে সচেতনতা বৈকি মৃত্যু। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিল লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কোনো বিজ্ঞানের তথ্য উপাত্ত্য-ই কাজে আসছেনা। এমন উদ্বেগ -উৎকন্ঠার মধ্যে-ই প্রকৃতির নিয়মে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা দিবস। এ যেনো একদিন স্বাধীন দেশের পরাধীন মানুষের দেশ। শহর-গ্রাম সবখানেই প্রকৃতির এক অঘোষিত কারফিউ জারী বলবৎ কার্যকর। বাঙালি অনেক শব্দের সাথে পরিচিত হলেও করোনার কারণে হোম কোয়ারেন্টিন, আইসোলিউশন,লক ডাউন ইত্যাদি শব্দের সাথে তেমনটা পরিচিত না হলেই জীবনের তাকিদে এখন সবাই অন্তত জেনেছে সামাজিক দূরত্ব তৈরি করতে হবে,ঘরের মধ্যে একা একা থাকতে হবে, প্রতি বিশ অন্তর অন্তর সাবান বা হ্যান্ডস্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুতে হবে, হাঁশি-কাসি’র সময় কনুই বা টিস্যু পেপার দিয়ে সংক্রমণ ঠেকাতে সম্ভব হবে এবং মাস্ক ব্যবহার করতে হবে,এ সবই এখন বাঙালির নিয়মে পরিণত হয়েছে তবে এখনও শঙ্কা থেকেই যায় যখন সরকার লক ডাউন করে সংক্রমণ ঠেকাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তখনও দেখা যাচ্ছে নিয়মের তোয়াক্কা না করে হাঁটে বাজারে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ঘুরাঘুরি করতে। আবার যখন সরকারি ও বেসরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, সংক্রমণ ঠেকাতে অর্থাৎ সবাইকে যে যেই শহর কিংবা গ্রামে আছেন সে সেখানেই অবস্হান করে, যার যার ঘর কিংবা রুমে অবস্হান করার কথা, সেখানে তার উল্টো চিত্র, রাস্তা ঘাটে, লঞ্চে, ট্রেনে বাসে, ইত্যাদিতে সমাগম করে ঈদের ছুটির মতো করে বিভিন্ন জেলায় ছুটে চলা। এতে করে লকডাউনের উপকারের চাইতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। এখন তারা ৬৪ জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার করবে। আর বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশের জন্য কতটা সক্ষমতা আছে এটা আমাদের সবার জানা। সবেমাত্র দেশ মধ্যম আয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে। একটি উদীয়মান দেশের জন্য কোভিড-১৯ বিশাল ধাক্কা ফেলবে অর্থনৈতিকভাবে। বিশেষ করে প্রবাসীদের ঠেকানো গেলে বা কোয়ারেন্টিনে বা হোম কোয়ারেন্টিনের শতভাগ নিশ্চয়তা আগেই যদি দেওয়া যেতো তবে হয়তো এতোটা সংকটের সম্ভাবনা থাকতো না। এখন দেখার বিষয় আমাদের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্যবিভাগ কতোটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু সবার আগে সাধারণ জনগণকেই বেশি এগিয়ে আসতে হবে এবং সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় অনেক খারাবি অপেক্ষা করছে আমাদের ভাগ্যে। এই পর্যন্ত প্রায় বিশ্বে বিশ হাজার মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছে এবং সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় চার লাখের বেশি আর সুস্হ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছে এক লাখের বেশি মানুষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার সংক্রমণকে ১১ মার্চ বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে। চীন থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর ৭১ দিন পর সংস্হাটি এ ঘোষণা দেয়।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ আরও বেশি জোড়ালো পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে। কার্যত পুরো বাংলাদেশ লোক ডাউনের আওতায় আনার জন্যও কাজ করে যাচ্ছে মাঠ প্রশাসন, তার সাথে মাঠ প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সারাদেশে মাঠে নামানো হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে। মহান স্বাধীনতা দিবসের দিন থেকে আপাতত ৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই ব্যবস্হা গ্রহণ করা হয়েছে। উদভূত পরিস্হিতির উপর নির্ভর করে পরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই গণচীন থেকে দশ হাজার কীট ও মাস্ক,ইক্যুইপমেন্ট-পিপিই দিয়েছে আরও ২৯ এপ্রিলের মধ্যে পাঠাবে চীন। চীনের বন্ধুতের হাত আমাদের বেশি প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা তাঁদের বেতনের অর্ধেক বেতন করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় দিয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগেও এই বৈশ্বিক সংকটের সময় এগিয়ে এসেছে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবচাইতে আন্তরিকতার সাথে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় পদক্ষেপ নিয়েছেন। সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব তেমন পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যেহেতু বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তাই জনগণ আস্হা ও ভরসা পাচ্ছে। বিশেষ আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকেনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোঁটার জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে গেছেন, তেমনি তাঁর কন্যাও বাঙালির মঙ্গল বয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে কাজ করে যাচ্ছেন। আর বাঙালি জাতি ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা বন্যা প্রকৃতির প্রতিকূলতার করে

প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধে অংশ নিতে হয়। তাই এই করোনাভাইরাসকেও জয় করে নিজেদের মুখের হাসি হাসবে।
বাঙালি জাতি বীরের জাতি, তাদের আত্মবিশ্বাস-ই কোভিড-১৯ থেকে পরিত্রাণ পেতে সহায়তা করবে। ইতিমধ্যে করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় দেশেই তৈরি হচ্ছে পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট পিপিই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষুধাগার এর ফরমায়েশে এগুলো তৈরি করছে চট্রগ্রাম ইপিজেডের একটি কারখানা। এরই মধ্যে ৫০ হাজার পিপিই সরবরাহ করেছে ঔই প্রতিষ্ঠানটি। ইনশাল্লাহ হয়তো আরও অনেক কারখানা এগিয়ে আসবে মানবতার সেবায়। মহান সৃষ্টি কর্তার কৃপায় বাংলাদেশ কোভিড-১৯ কে পরাজিত করবেই। যতো কিছুই বলি বাঙালি জাতি সব পারে,মহান স্বাধীনতার ৪৯তম দিবস পালন না করে যতি তারা ঘরে বসে সরকারের নির্দেশ ও তাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য ঘরে থাকতে পারে, অবশ্যই সবকিছু মোকাবেলা করে এই বৈশ্বিক সংকট থেকে উত্তরণ হবে।
বারবার একই কথা সতর্ক, সচেতন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং যার যার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে অবশ্যই মহান সৃষ্টির কর্তা রহম করবেন বাংলাদেশকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো সঠিক তথ্য না জেনে কোনো কিছু শেয়ার কিংবা পোস্ট না করাই এই সংকটের সময় মহৎ কাজ। গুজবে কান দিয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্হা ও আইইডিসিআরের আপডেট তথ্য জেনেশুনে সজ্ঞানে সচেষ্ট থাকার কোনো বিকল্প নেই। মহান সৃষ্টি কর্তার অসীম ক্ষমতার কাছে পৃথিবীর মানুষ খুবই নগন্য, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ করোনাভাইরাস(কোভিড-১৯), সৃষ্টির রহস্য আজও মানুষের কাছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে। সুতরাং করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ কে পরাজিত করতে হলে অবশ্যই সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে এবং সৃষ্টির কর্তার প্রতি বিশ্বাস ভরসা রেখে সব পদক্ষেপ নিতে হবে। আজ সারা বিশ্ব বিচ্ছিন্ন কেউ কারও না। এমন বৈশ্বিক সংকট কেউ কারও হাত ধরে নয় দূরে থেকে বন্ধুত্ব বজায় রাখার এ এক প্রকৃতির অদ্ভুত নিয়ম। হয়তো পৃথিবীর মানুষ কোনোদিন এই দিনের কথা ভুলে যাবেনা। যুগে যুগে এমন অনেক মহামারি হয়েছে, আর যেখানেই যেই দেশে, যেই গোত্রে হয়েছে, সেখানকার মানুষের অসহায়ত্বের কথা এমনই ছিল। সুতরাং পৃথিবীর মানুষ আজ বড় অসহায়। জাতি রাষ্ট্র ধর্ম বর্ণ গোত্র গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে এগিয়ে এসে কাজ করতে হবে, তবেই করোনাভাইরাসকে পরাজিত করা সম্ভব হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সবচাইতে ভালো নীতি একা থাকা। এই বৈশ্বিক সংকটের মুহূর্তে মহান স্বাধীনতা দিবসের আহবান সচেতনতা, সচেতনতা, সচেতনতা-ই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার মূল প্রতিপাদ্য। নিজেকে কোভিড-১৯ থেকে নিরাপদ রাখতে পারলেই ভালো থাকবে প্রিয় সোনার বাংলাদেশ।

লেখক; কলামিস্ট, সাবেক সহসভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।