কমে গেছে গরুর দাম, বেপারীদের কপালে চিন্তার ভাজ

এনামুল হাসান (স্টাফ রিপোর্টার)

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। যেখানে এক দিন আগেও ঢাকার কেরানীগঞ্জে কোরবানির হাটগুলোতে পশুর দাম ছিলো চড়া। আজ সেখানকার চিত্র সম্পুর্ন ভিন্ন। দাম পরে গেছে অনেকটাই। হাটে আনা অধিকাংশ বড় গরু অবিক্রীত রয়ে গেছে। এতে গবাদিপশুর ব্যবসায়ীরা চরম হতাশ। অনেকেই লোকসান হবে বলে আশঙ্কা করছেন। ১৮ জুলাই হাট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কেরানীঞ্জের হাটগুলো আগেভাগেই জমে উঠেছিলো। প্রথম দিকে গরুর দাম বেশ চড়া ছিলো। তবে আজ হাটের শেষের দিনে দাম অনেকটাই কম।

আজ মঙ্গলবার (২০ জুলাই) কেরানীগঞ্জের হাট গুলোতে ঘুরে দেখা যায়, বড় গরুর বেশিরভাগই অবিক্রীত। রাত পোহালে ঈদ হওয়া সত্ত্বেও হাটে ক্রেতার চাইতে গরু অনেক বেশি। মধ্যম আকারের গরুর দিকেই ক্রেতাদের ঝোক বেশী। বড় গুলোর দাম জিজ্ঞেস করে বেশীর ভাগ ক্রেতাই চলে যাচ্ছেন।

জিনজিরা হাটে আয়ুব আলী ১০টি গরু নিয়ে এসেছেন আমিনপাড়া থেকে। তার ৫টি গরু বিক্রি হলেও আকারে বড় বাকি ৫টি গরু বিক্রি করতে না পারায় কপালে ছিলো চিন্তার ভাজ।
তিনি বলেন, আমার বড় গরু গুলোর মধ্যে একটি গরুর দাম ৬ লক্ষ টাকা। সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছিল। আমি বিক্রি করনি। কিন্তু এখন আর কেউ দাম করছে না। সবাই দেখে ছবি তুলে চলে যাচ্ছে। রাত পোহালেই ঈদ। গরু গুলো বিক্রি করতে পারবো কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

শেখর উদ্দিন নামে একজন বলেন, আমি ১৮টি গরু নিয়ে এসেছি। ৮টি গরু বিক্রি হয়েছে। এখনো বাকি ১০টি গরু বিক্রির আশায় বসে আছি। প্রথম দিকে হাটে দাম চড়া থাকায় বেশী লাভের আশায় বিক্রি করিনি। কিন্তু গতকাল বৃষ্টির পর থেকে হাটে গরুর দাম একেবারে পড়ে গেছে। আজ হাটের শেষ দিন। দেখি কি হয়।

হাটের বেশিরভাগ গরু ব্যাবসায়ীরা বলেন, গতকালের বৃষ্টির পর থেকেই গরুর দাম অনেক কমে গেছে। তারা কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখতে পারবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তিত।

হাটে গরু কিনতে আসা মোরসালিন বলেন, গতকাল সকালের দিকে আমি আগানগর ও জিনজিরার হাটে গরু দেখে গিয়েছিলাম। আজকে গরুর দাম অনেক কম। গতকাল যে গরু ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজকে সেই গরু ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

৬২ হাজার টাকায় কেনা গরু নিয়ে বারি ফিরছিলেন রাজু আহমেদ। তিনি বলেন, আমার গরুর সাইজের একই গরু গতকাল ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকায় অনেকেই কিনে নিয়ে গেছেন। গত কয়দিনের তুলনায় আজকে গরুর দাম অনেক সস্তা।

গত বছর এমন দিনে কেরানীগঞ্জের হাট গুলোতে গরুর সংকট দেখা দিয়েছিলো। তখন দামও ছিলো বেশ চড়া। সেই চিন্তা ও করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকেই আগে ভাগে গরু কেনা শুরু করেছিলেন। এতে বিক্রেতারা দাম হাকালেও আজ হাটের শেষ দিনের চিত্র ছিলো সম্পুর্ন ভিন্ন। গরু নিয়ে হাটে আসা বেশিরভাগ বিক্রেতার কপালেই চিন্তার ভাজ।