কমলাপুর আইসিডিতে ৩য় দিনের মতো পণ্য খালাস বন্ধ

জাহাঙ্গীর আলম,বিশেষ প্রতিনিধিঃ টানা তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা কমলাপুর আইসিডিতে (অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো) বন্ধ রয়েছে পণ্য খালাসের কাজ। একইসাথে বন্ধ বিল অফ এন্ট্রি দাখিলও। আর এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

শুল্ক কর্মকর্তাদের হয়রানি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে, রবিবার থেকে কাস্টমস এজেন্ট প্রতিনিধিরা পণ্য খালাস বন্ধ করে দেন। তাই শুল্কায়নে কাজও হয়নি। আইসিডির শুল্কায়ন কাজে স্থবিরতা ও অচল অবস্থা নিরসনের লক্ষ্যেই তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।

ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুল্ক গোয়েন্দা ও কর্মকর্তারা পণ্য খালাসের সময় আমদানিকারকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। নানা অনৈতিক লেনদেনের প্রস্তাবও দেন। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে এনবিআরকে অভিযোগও জানিয়েছে সংগঠনটি।

১২টি কারণ নিয়ে কর্মবিরতি
ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আলম বলেন, অন্তত ১২টি কারণ সামনে নিয়ে তারা এই কর্মবিরতি পালন করছেন। কারণগুলো হচ্ছে শুল্কায়ন শেষে যাবতীয় শুল্ককর পরিশোধের পর ডেলিভারির আগমুহূর্তে শুল্ক গোয়েন্দাকর্তৃক বিল অব এন্ট্রি লক করার কারণে পণ্য চালানের শুল্কায়নে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি এবং ডেলিভারির ক্ষেত্রে ১০-১৫ দিন সময় ক্ষেপণের কারণে আইসিডির শুল্কায়ন কাজে চরম স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মারাত্মক রকমের পোর্ট ও শিপিং ডেমারেজ এবং বিভিন্ন রকমের জরিমানা আরোপের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি এবং অচলবস্থার কারণে আমদানি ও রফতানিকারকদের কমলাপুর বন্দর ব্যবহারে চরম অনুৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দিন দিন আমদানি-রফতানিকারকগণ এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে এ বন্দরের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত ও ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

করোনার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি কমে যায়, ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতেও এ বন্দর ব্যবহারকারী সব স্টেক হোল্ডারগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার কারণে এ বন্দর সচল ছিল এবং রয়েছে। সরকার এ বন্দর থেকে প্রচুর রাজস্ব পাচ্ছে কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দাকর্তৃক আরোপিত বিভিন্ন হয়রানিমূলক পদক্ষেপের কারণে কাস্টমস হাউজ ও বন্দরের কর্মকাণ্ড অনেক হ্রাস পেয়েছে।

এজেন্টরা দাবি করেছেন, শুল্ক গোয়েন্দাকর্তৃক আটককৃত পণ্য চালানের শুল্কায়ন শেষে এনওসি প্রদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা ও অসদাচারণ বন্ধ করতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করতে হবে। শুল্ক গোয়েন্দা ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতা রয়েছে, তা দূর করতে হবে।

একই সাথে এস কোড ও একই শুল্কহারের কমন বর্ণনার পণ্যকে ভিন্নভাবে শ্রেণিবিন্যাশ করে মিথ্যা ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। অনেক সময় মনগড়াভাবে পরিমাপ করা হয়। এটা বন্ধ করতে হবে। দেখা যায়, পণ্য আমদানির পর অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে যায়। এটা পরিবেশগত বা ভৌগোলিক কারণে পণ্যের ওজন বেড়ে যায়। ওইসব ক্ষেত্রে ওজন বাড়ার জন্য জরিমানা করা হয়। এটা বন্ধ করতে হবে।

একাধিক এজেন্টের সাথে কথা বলা হলে তারা জানান, কমলাপুর বন্দরে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এর আগেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তারা এই হয়রানির কথা বলেছেন। টেবিলে টেবিলে এই হয়রানির ঘটনা ঘটে। কিন্তু কোনো প্রতিকার হয় না। ফলে তারা বাধ্য হয়েছেন, শুল্কায়নের কাজ থেকে বিরত থাকতে। এজেন্টরা বলেন, একদিন শুল্কায়নের কাজ বন্ধ থাকলে অন্তত ২০ কোটি টাকার রাজস্ব নষ্ট হয়। আর ব্যবসায়ীদেরও অনেক ক্ষতি হয়। এসব জেনেও তারা বাধ্য হয়েই কর্মবিরতি পালন করছেন।