1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
কবরস্থানের পাশে আশ্রয়, অনাহারে দিনযাপন বড়াইগ্রামে অসহায় রোকেয়া বেগমের পাশে উপজেলা প্রশাসন - দৈনিক আমার সময়

কবরস্থানের পাশে আশ্রয়, অনাহারে দিনযাপন বড়াইগ্রামে অসহায় রোকেয়া বেগমের পাশে উপজেলা প্রশাসন

রতন আলী নাটোর
    প্রকাশিত : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার প্রফেসর পাড়া এলাকায় রাস্তার ধারের একটি কবরস্থানই এখন আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অসহায় রোকেয়া বেগমের। প্রায় ১২ বছর আগে স্বামী হারানোর পর থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ, নিঃসঙ্গ ও সংগ্রামী জীবন।

স্বামীর মৃত্যুর পর জীবনের সচ্ছলতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। মাথা গোঁজার মতো নিজস্ব কোনো আশ্রয় নেই। প্রতিদিন দুমুঠো খাবারের জন্য লড়াই করতে হয় তাকে। কখনো স্থানীয়দের সহায়তায় জোটে একবেলা খাবার, আবার অনেক দিনই কাটে অনাহারে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর, দীর্ঘদিনের অপুষ্টি—সব মিলিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই বৃদ্ধা।রোকেয়া বেগমের এমন করুণ অবস্থার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মলয় কুমার কুন্ডু এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তারা।অসহায় বৃদ্ধার দুরবস্থা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তার জন্য একটি হুইলচেয়ার, নগদ অর্থ সহায়তা এবং শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি তার জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আশপাশের খাস জমি পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, রোকেয়া বেগমের বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও বেদনাদায়ক। ইতোমধ্যে আমরা তার তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছি। খুব দ্রুতই তাকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তার চিকিৎসা ও নিয়মিত তদারকির বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।

রোকেয়া বেগমের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মলয় কুমার কুন্ডু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং তার নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব নেন।

এসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তার পারিবারিক অবস্থা ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। উপজেলা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।প্রতিবেশীরা জানান, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা তাকে সহায়তা করে আসছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের দাবি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হলে জীবনের শেষ সময়ে অন্তত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পারবেন রোকেয়া বেগম।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এবং রোকেয়া বেগমের মতো আর কোনো অসহায় মানুষ যেন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য না হন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com