কক্সবাজারে প্রস্তুত ১০০ রুমের ৩ কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি

শিপন পাল, কক্সবাজার সদর প্রতিনিধি; করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কক্সবাজারে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ৩টি প্রাতিষ্ঠানিক সেন্টারকে সাময়িকভাবে নির্ধারিত করা হয়েছে। এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ১০০ রুম বিশিষ্ট জানা গেছে।

এছাড়াও  করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানান উদ্যোগ। জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হচ্ছে। অসুস্থ জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে সামায়িকভাবে মসজিদে না যেতে বার বার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছিল। তা ভঙ্গ করে একজন মিরপুরে মসজিদে যাওয়ায় অন্য ব্যক্তিও আক্রান্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলতে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তির বরাদ দিয়ে জানান, আগামী ২৬ মার্চের সরকারি ছুটি এবং ২৭-২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটির সাথে ২৯ মার্চ হতে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার এবং ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বন্ধের সাথে সংযুক্ত থাকবে। তাছাড়া কাঁচা বাজার, মুদির দোাকান, ঔষধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরি সেবার জন্য এ ব্যবস্থা আওতামুক্ত থাকবে। করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জনসাধারণকে অনুরোধ জানিয়েছে বলা হয়েছে, খাদ্য দ্রব্য, ঔষধ ক্রয়, চিকিৎসা, মৃতদেহের সৎকার ব্যতিত কেউ যেন কোনভাবেই বাড়ির বাইরে না যায়। প্রয়োজনে অফিস-আদালতের কাজ অনলাইনে সম্পাদন করে। শুধুমাত্র সরকারি অফিস সমূহের মধ্যে যারা প্রয়োজন মনে করবে তারাই অফিস খোলা রাখবে।

তাছাড়া গণপরিবহন চলাচল সীমিত রাখতে হবে। জনসাধারণকে যথাসম্ভব গণপরিবহন পরিহারে পরামর্শ দেয় সরকারের পক্ষ থেকে। যারা জরুরি প্রয়োজনে গণপরিবহন ব্যবহার করবে তাদেরকে অবশ্যই করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়া থেকে মুক্ত থাকার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গাড়িচালক এবং সহকারীগণকে অবশ্যই মাস্ক ও গøাভস পড়াসহ পর্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে জানান, আজ থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত থাকবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে সেনাবাহিনী জেলা ও বিভাগীয় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। সেনাবাহিনী বিশেষ করে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের কেই নির্ধারিত কোয়ানেটাইনের বাধ্যতামূলক সময় পালনে ত্রæট/অবহেলা করছে কিনা তা পর্যালোচনা করবে।

এছাড়া নি¤œ আয়ের কোন ব্যক্তি শহরে জীবন-যাপনের অক্ষম হলে সরকার তাকে ঘরে ফেরা কর্মসূচির অধীনে নিজ গ্রাম/ ঘরে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করেছে। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ৫০০ ডাক্তারের তালিকা করার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ)-কে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।