টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে কক্সবাজার শহরসহ ৮ উপজেলার অন্তত একশো পঞ্চাশটি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নদ-নদীর পানি উপচে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভোগে পড়েছে বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি উপচে জেলার ৯ উপজেলার অন্তত দুই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া, নাজিরারটেক, কুতুবদিয়াপাড়া, মোস্তাইক্যাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের বেশিরভাগ ঘরবাড়ি সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে ডুবে আছে শহরের কলাতলী সৈকত সড়ক ও হোটেল-মোটেল জোনের অন্তত চারটি সড়ক। এতে পর্যটকদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। টেকনাফে পঞ্চাশটি গ্রামে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত চল্লিশ হাজার মানুষ। উখিয়ার বিশটি গ্রাম ও তিনটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পানিবন্দী অন্তত তের হাজার স্থানীয় বাসিন্দা ও সাত হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় অন্তত দশ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় কক্সবাজারে একশো ঊনসত্তর মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সমুদ্রবন্দর সমূহে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।
পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এদিকে, টেকনাফ উপজেলায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন। এসময় শাহ পরীর দ্বীপ, মাঝের পাড়ার পানিবন্দী একশো পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এছাড়া টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে পানিবন্দি পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
Leave a Reply