কক্সবাজারে জমি দখলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সংঘর্ষের আশংক

সদর প্রতিনিধি (কক্সবাজার): কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল সাম্পান ঘাট এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে প্রতিপক্ষরা। গত ৯ জুন বিরোধীয় জমি দখল নিতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে প্রতিপক্ষ মনিন্দ্র লাল দে গং ও একই এলাকার মনি কাঞ্চন দে গং এর মধ্যে। এতে করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রাণহানি সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মনিন্দ্র লাল দে, তরণী মোহন দে, কার্তিক চন্দ্র দে জানান, নন্দ কুমার দে জানান, বিরোধীয় জমি খুরুশকুল মৌজার আর.এস মতে রায়তী মালিক ছিলেন আমাদের পিতা যোগেন্দ্র চন্দ্র দে। পিতা যোগেন্দ্র চন্দ্র দে মারা গেলে তাহার ওয়ারিশ হিসেবে বি.এস আমাদের নামে জরীপ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় সৃজিত বি.এস ৭১৭০ নং খতিয়ানে ১.১৭ একর ও সৃজিত বি.এস ১০৩৪৫ নং খতিয়ানে ০.৮৮ একর জমি সহ মোট ২.০৫ একর জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ-দখল করে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় মনিকাঞ্চন দে, মৃদুল চন্দ্র, শংকর চন্দ্র, অরূপ, লক্ষণ, লিটন, সমীর, মিটন, টিটু, গুরাধন ও বিভিষন দে আমাদের ভোগ-দখলীয় জমি তাদের নিজেদের দাবি করে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে অবৈধভাবে দখল করার উদ্দেশ্যে লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে  হালচাষ করছে। ওই জমিতে মনিকাঞ্চন গং এর কোন স্বত্ব না থাকা সত্বেও সংশ্লিষ্ট বি.এস ১৪৮৫ নং খতিয়ানের দাবিদার নিয়ে তারা বিগত ৩০/১২/২০১৯ ইং তারিখ বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এম.আর ১৩৬৭/১৯ ইং নং মামলা দায়ের করলে কাগজপত্র সঠিক না থাকায় বিজ্ঞ আদালত সার্বিক বিবেচনায় কক্সবাজার সদর এসিল্যান্ডকে বিরোধীয় জায়গার বিষয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক মতামতসহ রিপোর্ট দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয় এবং কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে বিরোধীয় জায়গায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বলে। বিজ্ঞ আদালতে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে গত ২৭/০৪/২০২০ ইং তারিখ। কিন্তু কক্সবাজার সদর মডেল থানা কর্তৃক নোটিশ দেন ০৯/০৬/২০২০ ইং তারিখ। যা মামলার ধার্য্য তারিখের প্রায় ২ মাস পর। নোটিশে নালিশী ভূমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে দখল-বেদখল করা হইতে বিরত থাকার জন্য ২য়পক্ষকে বলা হয় এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকে নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে মনিকাঞ্চন গং আমাদের জমি জোরপূর্বক জবর-দখল করার পাঁয়তারা করছে। আমাদের ভোগ-দখলীয় জমি নিয়ে বেশ কয়েকবার আমাদের উপর হামলা করেছে মনি কাঞ্চন গং।

পক্ষান্তরে প্রতিপক্ষ মনি কাঞ্চন দে বলেন, ওই জমির ভোগ-দখল আমাদের অনুকূলে ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ মনিন্দ্র লাল দে গং ভুয়া কাগজপত্র সৃজন করে তাদের নামে খতিয়ান সৃজন করে সম্প্রতি জমি দাবি করছে। উক্ত জমি নিয়ে আমরা আদালতের আশ্রয় নিলে আমাদের কাগজপত্রে কিছু ঘাটতি থাকায় মামলা চালাতে পারি নাই। কিন্তু কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ১৪৪ ধারা জারি করে একটি মামলা দায়ের করেছি। আদালতে বন্ধ থাকায় আইনের আশ্রয় নিতে পারছি না। আদালত খোলার সাথে সাথে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হবো।
মামলার ধার্য্য তারিখের পর কেন প্রতিপক্ষকে নোটিশ দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে মনি কাঞ্চন দে জানান, লকডাউন থাকায় হয়তো কক্সবাজার সদর মডেল থানা কর্তৃপক্ষ দেরিতে নোটিশ জারি করেছেন। এবিষয়ে সদর মডেল থানা কর্তৃপক্ষ ভাল জানবেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাখন চন্দ্র দে জানান, এবিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানের বরাবরে বিচারাধীন ছিল। চেয়ারম্যানের কথামতো উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। মনিকাঞ্চন গংকে কাগজপত্র নিয়ে প্রতিনিধি সমেত বসতে বললে তারা বার বার বসার নামে সময় ক্ষেপন করায় সমঝোতা করা সম্ভব হয়নি। তবে বিরোধীয় জমিতে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে উভয় পক্ষকে দখল-বেদখল করা হইতে বিরত থাকার জন্য বলা হয়েছিল।

এদিকে বিজ্ঞ আদালতের ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশ অমান্য করে মনিকাঞ্চন গং জমি জবর-দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মনিন্দ্র গং।