২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ইয়ার মাহমুদ। গত সোমবার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী এ গ্রেড পেয়ে পাস করেন তিনি।
ইয়ার মাহমুদ (৪৩) উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য।
স্থানীয় ও পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়ার কারণে অষ্টম শ্রেণিতে গিয়ে পড়াশোনা ছাড়তে হয় ইয়ার মাহমুদকে। সেসময় কৃষক বাবা অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই সংসারের হাল ধরতে হয়েছে তাকে। তখন থেকেই সংসারের খাটুনি, অসুস্থ বাবা মায়ের চিকিৎসা এ নিয়ে বহুবছর কেটেছে। তবুও পড়াশোনা করার আগ্রহ থেকে যায় ইয়ার মাহমুদের। নিজের একমাত্র মেয়েকে মাস্টার্স ডিগ্রী পর্যন্ত পড়াশোনা করিয়েছেন। বর্তমানে মেয়ে একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষক। গত কয়েক বছর আগে তিনি মনস্থির করেন পড়াশোনা শুরু করবেন। তাই ২০২৩ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শ্রীপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ক্লাসে গেলে অনেকেই হাসাহাসি করতো। তবুও পিছু হাঁটেননি তিনি।
ইয়ার মাহমুদ বলেন,’ মেয়ে স্কুল মাস্টার। আমার স্বপ্ন ছিল আমিও উচ্চ শিক্ষা নিবো। এটার প্রথম ধাপ পূর্ণ হলো। আমার স্ত্রী সন্তান,প্রতিবেশী এবং শিক্ষকদের কাছে ঋণী। পড়াশোনা ছাড়া বর্তমান সমাজে কোন কাজ করা যায় না। এটা হোক ব্যবসা চাকুরি অথবা ব্যবসা। আমি যে মেম্বার এখানে আরও বেশি পড়াশোনা দরকার।’
ইয়ার মাহমুদের মেয়ে স্কুলশিক্ষক আরিফা খাতুন বলেন, ‘দরিদ্র কৃষকের ঘরে জন্ম হলেও বাবা স্কুল জীবনে খুব মেধাবী ছাত্র ছিলেন। কিন্তু অভাব অনটনের কারণে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। কিন্তু বাবা হাল ছাড়েননি। ২০২৩ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শ্রীপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষায় এ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ তিনি। বাবার এই বয়সে এসএসসি পরিক্ষায় পাশ করায় আমরা খুবই আনন্দিত।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা সাইফুল ইসলাম বলেন,’ জাতিকে পরিপূর্ণ এবং উন্নত শিকড়ে পৌঁছাতে হলে অবশ্যই সেদেশে বসবাসরত প্রতিটি নাগরিকের জ্ঞানার্জন আবশ্যক। আমরা জানি, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। ইয়ার মাহমুদ সমাজের জন্য একটি বার্তা। শিক্ষার আসলে কোনো বয়স নেই। তার জীবনের মঙ্গল কামনা করি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষে উনাকে স্বাগত জানাই।’
Leave a Reply