চট্টগ্রাম ইপিজেড থানাধীন বন্দরটিলা উপশাখায় এনআরবি ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আলম মিয়ার অভিযোগ—প্রতারক ফিরোজ আহমেদের সাথে যোগসাজশে ব্যাংক কর্মকর্তারা অবৈধভাবে একটি যৌথ একাউন্ট খুলে তাঁকে ভয়াবহ আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
ঘটনা অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েক মাস পূর্বে প্রতারক ফিরোজ আহমেদ একাই ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে আলম মিয়ার নামীয় জাতীয় পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র জমা দেন। কিন্তু কোনো প্রকার সরাসরি যাচাই-বাছাই, সাক্ষাৎকার বা স্বাক্ষর ছাড়া ব্যাংক কর্মকর্তা শালু আক্তার অবৈধভাবে যৌথ একাউন্টটি অনুমোদন করেন। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রাহকের সরাসরি উপস্থিতি, সাক্ষর ও বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ছাড়া কোনো একাউন্ট খোলা সম্পূর্ণ বেআইনি।
শাখা ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রথমে দায় স্বীকার না করলেও, পরবর্তীতে আলোচনার একপর্যায়ে এ অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করেন এবং প্রতারক ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শালু আক্তার উল্টো দাবি করেন—“এভাবেই একাউন্ট খোলা যায়।” যা সুস্পষ্টভাবে ব্যাংক আইন ১৯৯১ (সংশোধিত ২০১৩) এর ধারা ৪৬ এবং ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৮ (জাল কাগজপত্র প্রণয়ন), ৪৭১ (জাল নথি ব্যবহার) এর লঙ্ঘন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক কর্মকর্তার গাফিলতি, দায়িত্বহীনতা কিংবা সরাসরি যোগসাজশে সংঘটিত জালিয়াতি প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা ব্যাংকিং খাতকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদি দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও প্রতারকের সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে জনগণ ব্যাংকের ওপর আস্থা হারাবে। ঋণখেলাপিদের মতোই ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও প্রতারক চক্রে রূপান্তরিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী আলম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—“এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়, বরং পরিকল্পিত প্রতারণা। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ না থাকলে এমন অপরাধ সম্ভব হতো না। আমি চাই, আইন অনুযায়ী প্রতারক ফিরোজ আহমেদ এবং ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
Leave a Reply