মাইজবাড়ী আব্দুল খালেক উচ্চ বিদ্যালয়ে কমিটির অনুমোদন ছাড়াই প্রধান শিক্ষকের একক স্বাক্ষরে উচ্চতর স্কেল অনুমোদনের অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন প্রধান শিক্ষককে ব্যাখ্যা দিতে তলব করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে—বিদ্যালয়ে কোনো বৈধ কমিটি না থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক এ কে এম জহিরুল হক একক স্বাক্ষরে রেজুলেশন তৈরি করে পছন্দের চারজন শিক্ষকের স্কেল অনুমোদন করেছেন। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন, যা পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিনের নজরে এলে তিনি প্রধান শিক্ষককে তলব করেন।
শিক্ষকদের দাবি, ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক একাই স্বাক্ষর করে চারজন শিক্ষক—মোফাজ্জল হোসেন, মোহাম্মদ আনোয়ার ফারুক, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও উম্মে সালমার উচ্চতর স্কেল অনুমোদন করেন। রেজুলেশনে উল্লেখ ছিল, পরবর্তীতে কমিটির অনুমোদন নেওয়া হবে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কমিটিতে এটি উপস্থাপনই করা হয়নি। তবুও স্কেল কার্যকর হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সভাপতির স্বাক্ষরযুক্ত বৈধ রেজুলেশনে সহকারী শিক্ষক শাকিলা স্বর্ণাসহ কয়েকজনের স্কেল অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেই বৈধ রেজুলেশন আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
সহকারী শিক্ষক শাকিলা স্বর্ণা বলেন, আমার স্কেলের রেজুলেশন ছিল বৈধ ও সম্পূর্ণ। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।
ট্রেড ইন্সট্রাকটর মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার স্কেল ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। ২০২০ সালেই আমার স্কেল পাওয়ার কথা ছিল।
সহকারী প্রধান শিক্ষক সাজেদা খানম বলেন, রেজুলেশনে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। একক স্বাক্ষরে স্কেল অনুমোদন স্পষ্টতই নিয়মবহির্ভূত।
অভিভাবকরা মনে করেন, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অস্থিরতা, অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবের ফলেই ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এ কে এম জহিরুল হক বলেন, কমিটি না থাকলে রেজুলেশন করে রাখা হয়। পরে কমিটি এলে অনুমোদন নেওয়া হয়। এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ফাইল দেখে তারপর মন্তব্য করা সম্ভব।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন বলেন, এককভাবে স্কেল অনুমোদন করা যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
Leave a Reply