এনআই‌ডির কার্যক্রম চলমান হ‌লেও সূচনা ও রক্ষনা‌বেক্ষণ যা‌দের দ্বারা, তা‌রাই ভূগ‌ছে চাকুরীর অ‌নিশ্চয়তায়

বিশেষ প্রতিবেদক: জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পে কাজ করা ৭৩ জন টেকনিক্যাল এক্সপার্ট তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকার দিনগুলোতে চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়ে আসা এই কর্মীরা এখন চাকরি থাকা নিয়েই দুশ্চিন্তা করছেন।
এনআইডি সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে চলে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সেক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মীরাও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যেতে পারেন। কিন্তু প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ পাওয়া ওই ৭৩ জনের ভাগ্যে কী হবে, তা এখনো জানা যায়নি। এনআইডি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ এই ৭৩ জন দেখভাল করে থাকেন। এত বছর কাজ করে সবাই যেমন দক্ষ হয়ে উঠেছেন, তেমনি কমিশনের ঝামেলাও কমেছে। কিন্তু তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। উ‌ল্লেখ‌্য যে, আই‌ডিইএ প্রক‌ল্পে জনবল প্রায় ১৪০০, যার প্রায় ১৩০০ আউট‌সো‌র্সিং, আ‌লো‌চিত এই ৭৩ জনবলই কেবল প্রক‌ল্পের জনবল হি‌সে‌বে অ‌বিহিত বা‌কি ক‌য়েকজন প্রেষ‌নে। ৭৩ জনের এক প্রতিনিধির সঙ্গে এই প্রতিবেদকের যখন কথা হয় তখন এভাবে তিনি নিজের কাজের বর্ণনা দেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়,ঢাকা থেকে রি‌মোট এক‌সে‌সের মাধ‌্যমে বিভিন্ন উপজেলা সার্ভারের টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধান করি।
কখনো আবার ফিল্ডে গিয়ে সমাধান করতে হয়। সারা‌দে‌শে ৫১৯ টি উপ‌জেলা সার্ভার ষ্টেষন রক্ষনা‌বেক্ষন, নেটওয়া‌র্কিং, সার্ভার মেরামত, ক‌মিশন কর্তৃক ভোটার নিবন্ধন অ‌্যা‌প্লি‌কেশন সি‌ষ্টে‌মের কা‌রিগ‌রি সাইট‌টি দেখভা‌লের দা‌য়িত্ব এই ৭৩ জন প্রক‌ল্পের দক্ষ ও কা‌রিগ‌রি জন‌বলের। এছাড়াও এনআই‌ডি সং‌শোধন, পুনঃমুদ্রণ, নতুন নিবন্ধন, দ্বৈত ভোটার সনাক্তকরণ, ভোটার‌দের স‌ঠিকতা যাচাই, মৃত ভোটারদের নাম ভোটার তা‌লিকা থে‌কে কর্তন, প্রতি বছর ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম ও ঠিকানা প‌রিবর্তন সহ এনআই‌ডি সং‌শ্লিষ্ট সকল আই‌টি বা কা‌রিগ‌রি বিষয়‌টি সুসম্পন্ন করা, স্মার্ট এনআই‌ডি প্রস্তুত, বিতরণ করার উপযোগী অর্থাৎ সা‌র্চিং, ব‌ক্সিং, মাঠ পর্যা‌য়ে প্রেরণ ও বিতরণ কার্যক্রমে সকল কা‌রিগ‌রি বিষয়, বি‌শেষভা‌বে বি‌ভিন্ন সময় অনু‌ষ্ঠিত সকল ধর‌নের নির্বাচ‌নের নি‌মিত্ত ভোটার তা‌লিকা প্রস্তুত, সরবরাহ, ভোটার এলাকা পুন‌বিন‌্যাস, ভোট গ্রহণ, ই‌ভিএম ব‌্যবহা‌রের প্রশিক্ষণ ও নির্বাচ‌নে ব‌্যবহৃত ই‌ভিএম এর কা‌রিগ‌রি বিষয় এমন‌কি নির্বাচে‌নের ফলাফল প্রস্তুত ও প্রকা‌শে সং‌শ্লিষ্ট সকল কা‌রিগ‌রি বিষয়‌টি আমরাই সম্পাদন ক‌রি। এই কর্মীদের দাবি, ২০১৩ সালের ১০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের (সভা নং-৪৬/২০১৩) কার্যবিবরণীতে এবং পরবর্তীতে (১০ অক্টোবর, ২০১৯) জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ কমিটির সভায় আইডিইএ প্রকল্পের দক্ষ জনবলকে আত্তীকরণের প্রস্তাব বিশেষ সারসংক্ষেপ আকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মী আমার সময়কে বলেন, ‘তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১১ মে নির্বাচন কমিশন সমজাতীয় পদ সৃজন করে রাজস্বখাতে আত্তীকরণের জন্য বিশেষ সামারি প্রস্তুত করে নির্বাহী অনুমোদনের প্রত্যাশায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাছে পাঠায়।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চাওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, আইনের আওতায় তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ীকরণের সুযোগ নেই।
তবে যৌক্তিক বিবেচনায় তাদের কথা ভাবা যেতে পারে বলে জানানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরাসরি জানিয়ে দেয়, প্রচলিত আইনে তাদের রাজস্বখাতে স্থায়ীভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। কারণ তারা প্রকল্পের আওতাভুক্ত। নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, এই প্রকল্পের মেয়াদ সম্প্রতি আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে ই‌তোম‌ধ্যে যার প্রায় তিন মাস শেষ হ‌তে চল‌ছে। এ নিয়ে ক‌য়েক ধাপে তাদের মেয়াদ বাড়লো। আর মাত্র ০২ মাসরে ম‌তো তাদের চাকরি আছে। এর আগে মেয়াদ শেষ হলেও এই সব কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা থেকে যায়। তাই মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ চালানো হয়। কিন্তু এরপ‌রে তা‌দের প্রকল্পের মেয়াদ আর বৃ‌দ্ধি হওয়ার সু‌যোগ নেই। নির্বাচন ক‌মিশন স‌চিবালয় উক্ত জনবলের গুরুত্ত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও মান‌বিক দিক বি‌বেচনা ক‌রে তা‌দের‌কে রাজস্বখা‌তে স্থানান্ত‌রের জন‌্য সুপারিশ ক‌রে‌ছেন। নিকস কর্তৃক প‌রিচা‌লিত চলমান কার্যক্রম প‌রিচালনায় নিজস্ব কর্মকর্তা ও কর্মচারী দি‌য়ে অপারগতার কার‌নে ০১ জুলাই ২০২১ থে‌কে আই‌ডিইএ প্রকল্প ২য় পর্যায় গ্রহণ ক‌রে‌ছে। ২য় পর্যা‌য়ে প্রায় ২৪০০ জবন‌বলের এক‌টি সংস্থান র‌য়ে‌ছে যেখা‌নে গু‌টিক‌য়েক কর্মকর্তা প্রেষ‌ণে আর বা‌কি সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী‌দের‌কে আউট‌সো‌র্সিং পদ্ধ‌তি‌তে নি‌য়োগের বিধান র‌য়ে‌ছে বিধায় উক্ত ৭৩ জনবল নতুন প্রক‌ল্পে যোগদান কর‌ছে না। নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ৭৩ জনকে রাজস্বখাতে স্থায়ীভাবে নিতে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একবার সুপারিশ করেছেন। আরেকবার সেই চেষ্টা তারা করবেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে তাদের বিষয়ে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
এনআই‌ডি সেবা সুচারুরু‌পে প‌রিচালনার নি‌মিত্ত বিদ‌্যমান সার্ভার সুষ্ঠু প‌রিচালনায় প্রক‌ল্পের ৭৩ জন দক্ষ ও কা‌রিগ‌রি জনব‌লের বিকল্প এই মুহু‌র্তে নেই।সব‌কিছুর মূ‌লে এই দক্ষ ও অ‌ভিজ্ঞ কা‌রিগ‌রি জনব‌ল প্রায় ১৪ বছর প্রক‌ল্পে চাকুরীকাল কা‌টি‌য়ে এনআইড‌ি এর স্থায়ী স্ট্রাকচা‌রের সা‌থেই থাক‌তে চান বিধায় নিকস কর্তৃক মান‌বিক ও সদয় বি‌বেচনার পাশাপা‌শি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলা‌দেশ সরকা‌রের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সানুগ্রহ কামনা কর‌ছে আই‌ডিইএ/স্মার্ট কার্ড প্রক‌ল্পে কর্মরত ৭৩ জনবল।