‘উৎসবহীন’ বাংলা নববর্ষ আজ

বিশ্বব্যাপী করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে শুধুমাত্র কিছু টেলিভিশন অনুষ্ঠান ছাড়া ঘরের বাইরে বিশেষ কোনো আয়োজন না রেখেই আজ মঙ্গলবার সারাদেশে উদযাপিত হবে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে পহেলা বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারি সব টেলিভিশনে একযোগে সম্প্রচার করা হবে বলে সোমবার জানিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা হতে প্রচার করা হবে বলে বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বছর রমনা পার্কের বটমূলে বিশ্বকবি রাবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গেয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেবেন না ছায়ানটের শিল্পীরা।

বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল বেশ জাঁকজমকভাবে পালন করা হয় বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ।

কিন্তু এ বছর প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিশাল জনসমাগম এড়ানোর জন্য অনুষ্ঠানগুলো স্থগিত করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে চলমান দুর্যোগের সময়ে রমনার বটমূলে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে না বলে ১ এপ্রিল জানিয়েছিল ছায়ানট।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিত বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রমনার বটমূলে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। শুধু ১৯৭১ এর ব্যতিক্রম হয়েছিল। তবে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছরও তারা এ আয়োজন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জনসমাগম এড়াতে পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান স্থগিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিল।

প্রায় ছয় শতক আগে থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন বাঙ্গালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৫৫৬ সালে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা পঞ্জিকা চালু করেছিলেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশের অধীনে থাকা তৎকালীন ‘সুবাহ বাংলা’ অঞ্চলে ভূমি কর আদায়ের সময়কে সহজ করার জন্য তিনি এর প্রচলন করেন। পহেলা বৈশাখ সরকারি ছুটির দিন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন এবং দেশে-বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুবরণ করছে।

স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে দেশ ও দেশের জনগণকে করোনার ছোবল থেকে রক্ষা করা। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বাংলাদেশের জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থেকে করোনা মোকাবিলা করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দেওয়া বাণীতে বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসী বাঙালিসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে মহামারি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে জনসমাগম এড়িয়ে এবারের বাংলা নববর্ষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে উদযাপনের আহ্বান জানান।

সোমবার বাংলাদেশে একদিনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১৮২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মোট ৮০৩ জনে দাঁড়াল। করোনাভাইরাসে দেশে নতুন করে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হওয়ায় এ সংখ্যা ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিনজনসহ মোট ৪২ জন করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন। এদিকে, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা সোমবার সকালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৪৭ জনে।