কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি আহুত জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯ জুলাই বিকেল তিনটায় মহাসড়কের বাস স্টেশনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সংগঠনটির ঈদগাঁও উপজেলা শাখা এ উপলক্ষে মঞ্চ স্থাপন সহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিকতা শেষ করেছিল। ‘ইনকিলাব, ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ লেখা সম্বলিত ব্যানার শোভা পাচ্ছিল মঞ্চে। প্রচার করা হচ্ছিল দলীয় ও বিপ্লবী নানা গান। দুপুর ২ টার পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণা দেয়া হচ্ছিল যে, ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনের মহানায়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির কেন্দ্রীয় আহবায়ক নাহিদুল ইসলাম নাহিদ, কেন্দ্রীয় এনসিপি নেতা সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সামান্তা শারমিন, ডাক্তার তাসনিম জারা সহ অন্যান্যরা অল্পক্ষণের মধ্যেই ঈদগাঁওতে পৌঁছূবেন। এনসিপির ঈদগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি তারেকুর রহমানসহ আরো কয়েকজন বারবার এ ঘোষণা দিচ্ছিলেন। ঘোষণায় আরো জানানো হয়েছিল, নেতৃবৃন্দ কক্সবাজারে পথ যাত্রা ও সমাবেশ শেষে এখন ঈদগাঁও স্টেশনের সন্নিকটে এসে পৌঁছেছেন। সমাবেশ উপলক্ষে স্থানীয় ঈদগাঁও থানার বিপুলসংখ্যক পুলিশের সদস্য মঞ্চের আশেপাশে অবস্থান নেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এনসিপি প্রতিনিধি তারেকুর রহমান মাইকে ঘোষণা করেন যে, কেন্দ্রীয় টিমের একজন নেতা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ঈদগাঁওর কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। এ সময় রেপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের টহল দলও মহাসড়কে অবস্থান নেন। পাশাপাশি মঞ্চের আশেপাশে ও মহাসড়কে উৎসাহী মানুষের অবস্থান ও আনাগোনা দেখা যায়।
হঠাৎ কর্মসূচি হবে না ঘোষণা দেয়ায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে নানা কানাঘুষা শুরু হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ছিল অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। এতে পরিপক্কতা দেখা যায়নি। সংগঠনের নিবেদিত প্রাণ তেমন কোনো নেতা- কর্মীওর দেখা মিলেনি।
যদিও তারেকুর রহমান তার ঘোষণায় বলেন যে, শীঘ্রই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে ঈদগাঁওতে আরো একটি বড় প্রোগ্রামের আয়োজন করা হবে।
সর্বশেষ জানা গেছে, কক্সবাজারে এনসিপির সমাবেশে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী কর্তৃক বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতাকে লক্ষ্য করে বিরূপ মন্তব্য করায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
অন্যদিকে বিএনপির ওই কেন্দ্রীয় নেতার নির্বাচনী এলাকা চকরিয়াতেও তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে।
মিছিল থেকে ব্যাপক ভাংচুরও চালানো হয়।
ঈদগাঁওতে অনেককে মন্তব্য করতে শোনা যায়, পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে এনসিপি নেতারা প্রোগ্রাম বাতিল করেছে।
তবে অন্য সূত্র দাবি করেছে, একই দিন বিকেলে পার্বত্য বান্দরবানে এনসিপির অনুরূপ পদযাত্রা কর্মসূচি থাকায় সময় স্বল্পতার কারণে নেতৃবৃন্দ ঈদগাঁওতে প্রোগ্রামে আসেননি।
Leave a Reply