1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির পরিচালনা নিয়ে বাবা ছেলের দ্ব›দ্ব, তদন্তে ইউজিসি - দৈনিক আমার সময়

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির পরিচালনা নিয়ে বাবা ছেলের দ্ব›দ্ব, তদন্তে ইউজিসি

নিজেস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশিত : শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) পরিচালনা নিয়ে দ্ব›েদ্ব জড়িয়েছে বাবা ও ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মকবুল আহমেদ খান তার ছেলের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি পরিবর্তন ও দখলে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতরের রেজিস্ট্রারের কাছে এ নিয়ে অভিযোগপত্র জামা দিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগে তিনি ছেলে আহমেদ ফরহাদ খান তানিমের নাম উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে, পরিবর্তিত ট্রাস্টি বোর্ড অবৈধভাবে উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, বাবা ও ছেলের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্ষতি না হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাস্টি যদি বৈধ না হয় তাহলে কীভাবে ভিসি নিয়োগ বৈধ হতে পারে? এসব খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যদের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রমাণ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। ছেলের কথা সত্য নাকি বাবার কথা সত্য সেটি শুনতে অস্বস্তি লাগছে। আমাদের লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। ভিসি নিয়োগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভিসিকে উনারা এভাবে নিয়োগ দিতে পারেন না। ভিসি নিয়োগে একটি প্যানেল হবে, মন্ত্রণালয় আমাদের চিঠি দেবে। যে প্যানেল পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে সেটি আগে ট্রাস্টি বোর্ড থেকে অনুমোদিত হতে হবে। কিন্তু আসলে ট্রাস্টি বোর্ড বৈধ কিনা তা যাচাই করা দরকার। উপাচার্য প্যানেল বৈধ ট্রাস্টি বোর্ড অনুমোদন করেছে কিনা, এগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চেয়ে পাঠাচ্ছি। তাদের প্যানেল সত্যিকার ট্রাস্টি বোর্ড থেকে পাঠানো কিনা, নাকি বিশ্ববিদ্যালয়টি বড় ক্রাইসিসে পড়ছে- এগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মকবুল আহমেদ খান বলেন, সারা জীবনের অর্জন দিয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছি। ২০১০ সালে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতরের অনুমোদন এবং ২০১২ সালে সরকারের অনুমোদন পাই। বিশ্ববিদ্যালয়টি ভালোভাবেই চলছিল। ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত না হোক। আমি বিশ্ববিদ্যালয়টি ওয়াকফ করে দিয়ে যাবো, যাতে সেটি জনকল্যাণে কাজে লাগে। এটি বুঝতে পেরে ২০২৪ সালে আমার ছেলে ও তার ভায়রা মিলে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। তারা জালিয়াতি করে আমাকে এবং আমার গুরুস্থানীয় একজন ব্যক্তিকে ট্রাস্টি বোর্ড থেকে বের করে দিয়ে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতরে পরিবর্তনের অনুমোদন নেয়। আমি প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ বিষয়টি ইউজিসি এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতর জানে। পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে আমি নিজ বাড়ি থেকে বাইরে থাকছি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান তানিম বলেন, আমি এগুলো দেখি না। আমার লোক আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। বিতর্কিত ট্রাস্টি বোর্ড খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মরতুজাকে নতুন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ২০২৫ সালের ২৫ জুন ইইউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলিম দাদের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর ১৬ জুলাই একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ড. গোলাম মরতুজাকে ভারপ্রাপ্ত ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগে ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সুপারিশে আচার্য বা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এবারের নিয়োগে সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এই নিয়োগে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মরতুজা বলেন, আমি আমার বিষয়ে কী বলবো? প্রক্টোরিয়াল বডিকে জিজ্ঞাসা করেন। তাছাড়া পূর্ণাঙ্গ ভিসি তো নিয়োগ হয়নি। ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, ‘ভারপ্রাপ্ত’ পদে নিয়োগের সুযোগ থাকলেও সেটি নির্ধারিত পদ্ধতির বাইরে যেতে পারে না। কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, যাচাই-বাছাই বা উন্মুক্ত নোটিফিকেশন ছাড়াই যদি হঠাৎ প্রজ্ঞাপন জারি করে নিয়োগ দিলে স্বচ্ছতা ও আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। এই বিষয়ে ইউজিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আইন লঙ্ঘন করে কোনো নিয়োগ হলে সেটি বাতিলযোগ্য। ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩১ ধারার ৬ উপধারায় বলা হয়েছে, এই ধারার অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো ভাইস-চ্যান্সেলর কোনো কারণে তার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর সাময়িকভাবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করবেন; তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের পদ শূন্য থাকলে, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার সাময়িকভাবে ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করবেন। আইন অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সরাসরি বাইরের কাউকে নিয়োগের সুযোগ নেই।
তিন সদস্যের কমিটি: অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ইউজিসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম তালুকদারকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সুলতান মাহমুদ এবং একই বিভাগের সহকারী পরিচালক পারভেজ গাজী।
প্রতিষ্ঠাতার লিখিত অভিযোগে যা আছে: ইইউবি’র প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মকবুল আহমেদ যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতরের রেজিস্ট্রারের কাছে গত ৩০ জুলাই লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর একটি ভুয়া বোর্ড সভার মিথ্যা তথ্য প্রদান করে চারজন বৈধ ট্রাস্টি সদস্যকে ‘পদত্যাগকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং দুইজন নতুন ট্রাস্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি জাল রেজুলেশন তৈরি করা হয়। ওই রেজুলেশনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনার দফতরে ট্রাস্টি বোর্ড পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা হয়। ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে প্রযোজ্য ফি জমা দিয়ে পরদিন ৫ ডিসেম্বর একটি লিখিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে আপনাদের দফতরে বিষয়টি জানাই এবং তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ করি। অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউনিভার্সিটির ট্রাস্ট ডিড অনুসারে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং সদস্য সচিবের উপস্থিতি ও সম্মতি ছাড়া বোর্ড সভা বৈধ নয় এবং কোনো সাধারণ সদস্য এককভাবে বা অন্য সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে মিলে এমন সভা আহŸান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না। কিন্তু সেই জালিয়াতিপূর্ণ রেজুলেশন এবং ভুয়া বোর্ড সভার ভিত্তিতে অবৈধ ট্রাস্টি বোর্ডকে অনুমোদন প্রদান করেছে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতর। এই অবৈধ অনুমোদনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ‘এই জালিয়াতি ও প্রতারণার বিষয় তদন্ত করে অবৈধভাবে অনুমোদিত ট্রাস্টি বোর্ড বাতিল করার ব্যবস্থা নিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের’ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com