আস্থা ও ভরসার জায়গায় প্রধানমন্ত্রী

ছাত্র ও যুবনেতাদের একাংশের দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স¤প্রতি গৃহীত পদক্ষেপে ব্যাপক উৎসাহ ও জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছে। মূলত দেশে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ও রাজনৈতিক পরিচয়ে দুর্নীতির শিকড় গভীর থেকে গভীরতর পর্যায়ে পৌঁছেচে। দুর্নীতির কার্যকর নিয়ন্ত্রণে কী ফল পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে চলমান অভিযান কতটুকু সর্বব্যাপী ও টেকসই হয় তার ওপর। সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, যুবলীগ নেতাদের টর্চার সেলে চাঁদার জন্য হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। গলায় সাপ পেঁচিয়ে ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে ভয়ানক নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে। গায়ের চামড়া জ্বলে-জ্বালাপোড়া করে এমন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রিক শক মেশিন পাওয়া গেছে। টর্চার সেলে নির্যাতনে ব্যবহƒত সরঞ্জাম ও আলামত দেখে র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শফিউল্লাহ বুলবুল বলেছেন, ‘খালেদের টর্চার সেলে যা আছে তা দেখে শরীরের রোম শিউরে ওঠার মতো অবস্থা।’
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হ্যাটট্রিক সময়ে এসে বিপর্যয়ে রয়েছে। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে দুর্নীতির খবর। কখনো বালিশ, কখনো পর্দা, কখনো টেন্ডারে আকাশচুম্বী দুর্নীতি। এ নিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের জনগণ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বাংলাদেশে রাজনীতির জন্য ভালো সময় যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ রাজনীতির এই দৃশ্যপট নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছেন।
ছাত্রনেতারা চাঁদাবাজির অভিযোগে পদ হারাচ্ছেন। জুয়ার আসর ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠায় দলের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম আসছে। অনেকে বহিষ্কৃত হচ্ছেন। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুর্নীতির যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, তা অবাক, উৎকণ্ঠা বা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। রাজনীতি, ব্যবসা, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাংশের অদম্য, অভেদ অন্যায়ের যোগসাজশ সমাজের সব পর্যায়ে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে। এখন জরুরি, কাউকে ছাড় না দিয়ে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে কোনো পরিচয়ে প্রভাবিত না হয়ে অনিয়মে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা। চলমান এ অভিযানের ব্যাপ্তি ও প্রসার সরকারি, বেসরকারিসহ প্রশাসনিক পর্যায়ে বিস্তৃত করতে পারলে দুর্নীতির একই চিত্র উদ্ঘাটিত হবে। রাজনৈতিক সংস্রবপ্রসূত দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার শুধু রাজধানী ও এর আশপাশের যুব ও ছাত্রনেতাদের একাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিস্তৃত দেশব্যাপী সব পর্যায়ে।
‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ মর্মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মন্তব্য করেছেন, তার মধ্যেই মূলত সর্বব্যাপী জবাবদিহির গুরুত্ব নিহিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আস্থা রাখার কাজ করেছেন। ছাত্রলীগের ঘটনা ও ক্যাসিনো পরিস্থিতির পর প্রধানমন্ত্রীর ভ‚মিকার কারণে তার জনপ্রিয়তা আরও অনেক বেড়ে গেছে। আস্থা এবং ভরসার জায়গায় প্রধানমন্ত্রী অনেক ওপরে চলে গেছেন। এর আগে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতার’ যে ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং স¤প্রতি দলীয় পরিচয় ও পদের অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে তার কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান যথাযথভাবে পরিপালন হলেই কেবল প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করি। অন্যথায় জনগণের বিচারে তিরস্কৃতও হতে পারেন।