1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
আনন্দ মোহন কলেজে নেই অধ্যক্ষ, থমকে গেছে শিক্ষা কার্যক্রম  - দৈনিক আমার সময়

আনন্দ মোহন কলেজে নেই অধ্যক্ষ, থমকে গেছে শিক্ষা কার্যক্রম 

স্টাফ রিপোর্টার
    প্রকাশিত : সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ আমান উল্লাহ
শতবর্ষের ঐতিহ্যে লালিত আনন্দ মোহন কলেজ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কলেজগুলোর অন্যতম। এ কলেজের রয়েছে এক সমৃদ্ধ ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। আনন্দ মোহল কলেজ ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯০৯ সাল থেকে। এই মহান উদ্যোগের সঙ্গে যাঁর নাম জড়িয়ে আছে, তিনি হচ্ছেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, সমাজসংস্কারক ব্যারিস্টার আনন্দমোহন বসু। এক সময় এ কলেজে ৫০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে ৩৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী, দুই শতাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছে এ কলেজে। বৃহত্তর ময়মনসিংহকে শিক্ষা নগরী বলার অন্যতম কারনের মধ্যে একটি এ কলেজ। সম্প্রতি এ কলেজে অধ্যক্ষ সংকটে অনেকটাই থমকে গেছে শিক্ষা কার্যক্রম। গত (৩ আগস্ট) আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আমান উল্লাহকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপাধ্যক্ষ সাকির হোসেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ভাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাগর হত্যার আসামি হওয়ায় তার পদত্যাগ দাবি করেন। এরপর ১৮ আগষ্ট শিক্ষার্থীদের লাগাতার স্লোগানের মুখে সাকির হোসেন কলেজের চলমান সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেন। এরপর তিনি শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকেই অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ বিহীন চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ নিয়ে অনেকটাই আতংক বিরাজ করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও কর্মচারীদের মধ্যে। কেউ কেউ বলছেন আমরা এখন অভিভাবক বিহীন, কেউ কেউ বলছেন সাবেক অধ্যক্ষ আমান উল্লাহই ভালো ছিলো, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, দ্রুত নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা বলছেন, চলমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে। আমরা দ্রুত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি।এইচএসসি পড়ুয়া তাহমিদ ইবনে নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেছেন, আমাদের আজকের প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা তাই কলেজে এসেছি। অধ্যক্ষ স্যার না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে হয়তোবা সমস্যা হচ্ছে। প্রশ্নের জবাবে তিনি আরোও বলেন, অধ্যক্ষ আমান উল্লাহ স্যার অনেকের মধ্যে ভালো ছিলো।
মাষ্টার্সে পড়ুয়া সাকিব নামে এক সাধারণ শিক্ষার্থী বলেন,আমান উল্লাহ স্যার অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। স্যার কিছু না বলেই চলে গেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, এত বড় কলেজ দুই চারটা সমস্যা থাকতেই পারে। তবে আগের স্যারদের বিরুদ্ধে তো কোনো অভিযোগ পায়নাই। আগের স্যার, হোস্টেল গুলোতে ফান্ড নাই সেখানে ফান্ড এনে দিছে। ছাত্ররাও হের জন্য পাগল এখন কি থেকে কি হইছে কিছুই জানিনা উপরের মহলের ব্যাপার আমরা কর্মচারী হয়ে অনেক কিছুই বলতে পারি না।চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কলেজের আরেক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে আনন্দ মোহন কলেজের ১০০ বছরের ইজ্জত ১ দিনেই চলে গেছে। এখন আমরা অভিভাবক বিহীন। নতুন অধ্যক্ষ এখন সরকার না দিলে তো আমরা জোড় করে আনতে পারবো না‌। আমান উল্লাহ’র যে বুদ্ধি ছিলো অন্য কোন প্রফেসর এখন আর টিকবার পাইতো না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, আগের প্রিন্সিপাল আমান উল্লাহ স্যারের একটাই দোষ তিনি আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত, এছাড়া কোন অভিযোগ নেই। এ কারনে তাকে ওএসডি করা হয়েছে। এখন আমাদের প্রশ্ন একজন শিক্ষক আওয়ামী লীগের আমলে যদি অধ্যক্ষ হন তাহলেই কি তিনি ফ্যাসিস্ট। আমাদের দেখা মতে একজন সেরা প্রিন্সিপাল আমান উল্লাহ। ওনার দুরদর্শি নেতৃত্বে আনন্দ মোহন কলেজের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি সবার হৃদয়ের জায়গা করে আছে। আমরা স্যারকে খুব মিস করি। আনন্দ মোহন কলেজ শাখা  ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি নাসিফুল হাসান মৃধা বলেন, দীর্ঘ ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্যারের (অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ) পদ থেকে অপসারণের দাবিতে অধ্যক্ষ,উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদ ৩ রুমে তালা দিয়ে লাগাতার আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। আমরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ ক্রিয়াশীল সকল ছাত্র-সংগঠন ঐক্যমতের ভিত্তিতে চলমান এ আন্দোলনে ৩ টি সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তুু প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ও যথোপযুক্ত পদক্ষেপ এখনো দেখতে পাইনি। এতে করে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে আশু পদক্ষেপ নিয়ে এ অচলাবস্থা নিরসনের জোর দাবি জানাই কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম সিদ্দিকী বলেন, এখানে সমস্যার মূল কারন হচ্ছে বুঝের অভাব। একটি প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্যটা আগে জানতে হবে। গত ৫০ বছরের ইতিহাস দেখেন কত কত পরিবার এ প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করে জীবনমানের অগ্রগতি ঘটিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের আবেগের ব্যাপার আছে বিবেকের ব্যাপারও আছে। সমস্যা থাকবেই তবে আমাদের চাওয়া এ প্রতিষ্ঠান যাতে আরও গতিশীল হয় এবং তার লক্ষ্যের দিকে আগায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com