আদালতের রায় দ্রুত কার্যকর করে চা শ্রমিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি

জাহাঙ্গীর আলম,বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রামঃ
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. ইং-৭৭) এর উদ্যোগে সকল সদস্যদের অংশগ্রহণে আজ ৬ আগস্ট’১৯ইং মঙ্গলবার বিকাল ৪ টায় চট্টগ্রাম নগরীর প্রেস ক্লাব চত্বরে সংগঠনের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও আদালতের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ চা শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী একটি বহু প্রাচীনতম শিল্প প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এ শিল্পে নিয়োজিত চা শ্রমিকদের একটি প্রাচীনতম চা শ্রমিক সংগঠন। যা ১৯৪৮খ্রি. ৩ জুন তারিখে মৌলভী  বাজার জেলাধীন কুলাউড়া শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃবৃন্দরা হলেন সভাপতি পূর্ণেন্দু কিশোর সেনগুপ্ত, এমএলএ, সহ- সভাপতি জীবন সাওতাল, সাধারণ সম্পাদক নিকুঞ্জ বিহারী চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক দর্গেশ দেব প্রমুখ। বক্তারা আরো বলেন, ইউনিয়নটি রক্ষা করার প্রয়োজনে চা শ্রমিকরা,  চা  শ্রমিক ঘরানার  শিক্ষিত  সন্তান  তৎকালীন  সরকারী চাকুরীজীবী  শ্রী রাজেন্দ্র  প্রসাদ  বুনারজিকে  তার   কর্মস্থান  ময়মনসিংহের  সরিষাবাড়ী হতে  ডেকে পাঠিয়ে ইউনিয়নটি পরিচালনার জন্য তাকে দায়িত্ব প্রদান করেন ১৯৭০ সালে। তখন থেকেই   ইউনিয়নটি   গঠনতন্ত্র   মোতাবেক   পরিচালিত   হয়ে   শ্রমিকদের   বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেখাশুনাসহ নানা অধিকার বিষয় আদায় করে আসছে। ২০০৬ খ্রি. তারিখ ৩০ এপ্রিল ২৯তম দ্বিতীয় বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় ৮ দিনের  মাথায় তখন ৮ মে ২০০৬ খ্রি.  চারদলীয় জোট সরকারের  মদদপুষ্ট তথাকথিত সংগ্রাম কমিটি নামধারীরা শ্রম অধিদপ্তরে তৎকালীন পরিচালক শামশুল স্বাক্ষরিত একটি এডহক কমিটি বলে ইউনিয়নটি জবর দখল করে নেয়। এ জবর দখলের কারণে ইউনিয়নের কাজের স্থায়ীভাবে নিয়োজিত ১৫৩ জন বিভাগীয় নারী পুরুষ কর্মচারী চাকুরী হারা হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ইতিপূর্বে অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ সময় বক্তারা আরো বলেন, তত্ত্বাবধায় সরকারের শ্রম অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ইউনিয়নের সদস্যদের কাউকে কিছু না জানিয়ে সদস্যদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গঠনতান্ত্রিক পন্থায় ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র সংযোজন করে ২০০৬ খ্রি. নির্বাচিত কমিটি বলবৎ থাকাবস্থায় ২০০৮ খ্রি. প্রথম নির্বাচন করা হয়। যার ধারাবাহিকতায় ২০১৪ ও ২০১৮ খ্রি. পরপর দুটি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়।বক্তারা আরো বলেন, ইউনিয়ন অফিস তথা লেবার হাউস জবর দখলকারী ওও অন্যান্য অনিয়মের
বিরুদ্ধে বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে ২০০৬ খ্রি. নির্বাচনে কমিটি সংশিষ্ট মহলের অনেকে লেখালেখি করলেও কোন বিচার না পাওয়ায় লক্ষাধিক চা শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও চা শিল্পের   উন্নয়নের   স্বার্থে   ইউনিয়নটিকে   পূর্বের   মতো   গঠনতান্ত্রিক   প্রক্রিয়ায়
পরিচালনার লক্ষ্যে বিগত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ খ্রি. চট্টগ্রামস্থ দ্বিতীয় শ্রম আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য এক মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে বিগত ৩০ জানুয়ারি’১৯ তারিখে মাননীয়  আদালত ৩০ এপ্রিল’০৬  খ্রি.
তারিখে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতান্ত্রিক ২০০১ ধারাবাহিকতায়   ২৯তম   সাধারণ   সভা   নির্বাচিত   কমিটি   কর্তৃক   ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালনায় আইনানুগ হকদার মর্মে আদেশ প্রদান করায় গত ১৫ মে’১৯
খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত কমিটির সভা গৃহীত সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ৩০তম ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে শ্রম অধিদপ্তর সহ সংশিষ্ট সকল মহলকে সহযোগিতা কামনা করে আদালতের আদেশ বাস্ত
বায়নের জন্য পত্র প্রদান করা সত্ত্বেও এব্যাপারে এখনো পর্যন্ত শ্রম অধিদপ্তরের তেমন কোন সাড়া না পাওয়ায় চা শ্রমিকরা চরম হতাশায় ভুগছে। বক্তারা অভিলম্বে আদালতের রায়   দ্রুত   কার্যকর   করে   চা   শ্রমিকদের   অধিকার   আদায়ে   নিশ্চিত   করণপূর্বক   চা শ্রমিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানান। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিনত মুন্ডা মাস্টার, প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু, কেন্দ্রীয় কমিটির  সদস্য   আবুল   হোসেন,   আইবিডিএ   চেয়ারম্যান   জে.বি.এস   আনন্দবোধি ভিক্ষু,সাগতিক কত্তর, উত্তম সিং, শিবলু নায়েক, নিক্সন চাকমা, বাবু দুলাল, খিরদ বাপ্পী,সুজিত বাউরী, রাজু বাউরী, আশুতোষ বাউরী, মতিশ বাউরী, সুমন বাউরী, বরুন মলিক, তমাল নায়েক, সারতি, সবিতা, স্বপন, কুলবালা, চারুবালা, বাসন্তী,  সনজা প্রমুখ।