আওয়ামীলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ” তরুণদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি “

এইচ এম মেহদী হাসান:  অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই ভবিষ্যৎ গড়তে হয়। ইতিহাসের মূল নির্যাসটুকু নিয়ে যদি আমি আলোচনা করি, সেখানেও দেখতে পাই তরুণদের উচ্ছ্বাসের কলকলধ্বনি অর্থাৎ তরুণদের জয়জয়কার। আওয়ামীলীগের গত সম্মেলনে বয়োজ্যেষ্ঠদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের উচ্ছ্বাস। এ কথা বলার অর্থ হলো, যেহেতু আওয়ামীলীগ প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। আওয়ামীলীগের মতো রাজনৈতিক দলের তরুণদের সম্পৃক্তা মানেই, তরুণ প্রজন্ম যে রাজনীতিতে আসতে চায়,দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চায়,দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। আর দেশকে এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত প্লাটফরম হিসেবে তরুণদের পছন্দ আওয়ামীলীগ। দুর্যোগ দুর্বিপাকে আওয়ামীলীগ দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে আসছে জন্মলগ্ন থেকে। বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগ বাংলাদেশ ইতিহাসে এই তিনটি নাম অমলিন অবিনশ্বর। ইতিহাসে এই তিনটি নাম একই সূত্রে গাঁথা। আওয়ামীলীগ মানেই দেশের স্বাধীনতা, স্বাধীন মানচিত্র, স্বাধীন পতাকা। দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গণমানুষের প্রিয় দল আওয়ামীলীগের ৭১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তরুণ প্রজন্মের ভাবনাও আকাশ ছোঁয়া। কারণ একমাত্র আওয়ামীলীগই এদেশের জন্য, এদেশের মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে, তরুণদের প্রত্যাশা পূরণের একমাত্র প্লাটফরম আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগ মানেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ধারা। আওয়ামীলীগ মানেই সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের কাঁদা-মাটি গায়ে মাখা খেটে খাওয়া মানুষের কাফেলা। অতীতের মতো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও আওয়ামীলীগের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। বাঙালি জাতির মুক্তির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেয়া উপমহাদেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির চাইতেও বেশি কিছু দিতে আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে প্রস্তুত। তরুণদের স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ স্বপ্ন নয়। এখন তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক বাংলাদেশ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশকে গড়তে বেশি সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। জাতির পিতার কন্যা, বিশ্বশান্তির অগ্রদূত, সারা বিশ্বের সেরা রাষ্ট্রনায়ক, সারা বিশ্বের মধ্যে সততা ও আদর্শের উৎকৃষ্ট উদাহরণ, সারা বিশ্বেন দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্ব গুণের কারণে দাফে দাফে আজ বাংলাদেশ সকল সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের প্রত্যাশার কথা বিবেচনা করে, তরুণ প্রজন্মের জন্য আগামীর বাংলাদেশকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সব ধরণের ব্যবস্হা করে দিয়েছে আওয়ামীলীগ সরকার। বিশেষ করে আধুনিক ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির বাংলাদেশ গড়ার পিছনের কারিগর জাতির পিতার সুযোগ্য দৌহিত্র ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য সন্তান তরুণ প্রজন্মের আইকন তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আগামীর বাংলাদেশ সজিব ওয়াজেদ জয়। তরুণদের চোখে আওয়ামীলীগ হচ্ছে আয়না। যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্ম তাদের সত্যিকারের অবয়ব দেখতে পাবে। তরুণ প্রজন্ম মনে করে যে আওয়ামীলীগ দেশের পতাকা দিয়েছে, স্বাধীন সার্বভৌম দেশ দিয়েছে, মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার দিয়েছে, সুন্দর ভবিষ্যতের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা দিয়েছে, সেই আওয়ামীলীগের কাছেই আমরা প্রত্যাশা করি এবং আগামীর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের হাত ধরে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্ম বদ্ধপরিকর। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তরুণদের প্রত্যাশার চাইতেও বেশি কিছু দিতে তিনি রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাঁর জীবনের একটাই চাওয়া তরুণদের হাত ধরেই একদিন পিতা মুজিবের সোনার বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে শীর্ষ স্হান লাভ করবে। দেশের তরুণদের কাছে আওয়ামীলীগই তাদের স্বপ্ন পূরণের ঠিকানা। দেখতে দেখতে আওয়ামীলীগ ৭১ বছর পেরিয়ে ৭২ বছরে পদার্পণ করল। বাংলাদেশের গড় আয়ু ৭৩ বছর। আর ৬৬ বছর হলে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বার্ধক্য। বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী কেউ ৬০ বছর পেরোলেই তিনি ‘সিনিয়র সিটিজেনে’র মর্যাদা পান। সেই হিসেবে আওয়ামীলীগ এ দেশের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক দল। শুধু এটি বললে কম হবে,বাঙালি জাতির মুক্তির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেয়া উপমহাদেশে প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলও হচ্ছে আওয়ামীলীগ। স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা, সর্বশেষ সামরিক স্বৈরশাসক থেকে গণতন্ত্রে উত্তোরণ এর প্রতিটি অর্জনের সংগ্রাম লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী একটিই রাজনৈতিক দল,তা হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। বাঙালি জাতির প্রতিটি অর্জনেরও দাবিদার প্রাচীন ও সুবিশাল এই রাজনৈতিক দলটি। পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে যে দলটির প্রতিষ্ঠা, সেই দল পেয়েছে সুরম্য ১০ তলা নিজস্ব কেন্দ্রীয় কার্যালয়। আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা’র সুযোগ্য, প্রাজ্ঞ, কৌশলী সাহসী নেতৃত্বের কারণে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল আওয়ামীলীগ একটানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। আওয়ামীলীগের অপ্রতিরোধ্য জনসমর্থন আর জনপ্রিয়তায় প্রতিপক্ষ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক অস্তিত্বই এখন সংকটের মুখে। বিরোধী পক্ষ আওয়ামীলীগের বিপক্ষে মাথা তুলে দাঁড়ানোর মতো শক্তি ও সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছে। তাই বর্তমানে রাজনৈতিক মাঠে আওয়ামীলীগ প্রকৃতপক্ষে অপ্রতিদ্বন্দ্বী, অপ্রতিরোধ্য। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামীলীগের জন্ম যে মোটেই সুখকর ছিল না। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন স্বামীবাগের রোজ গার্ডেনে নতুন দল গঠন করা হচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হলে তৎকালীন সরকার ভীত হয়ে পড়ে। ওই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মওলানা ভাসানীকে গ্রেফতার করার সম্ভাবনা দেখা দেয়। তখন নতুন সংগঠন গড়ে তোলার কারিগররা মওলানা ভাসানীকে আত্নগোপনে রাখার ব্যবস্হা করেন এবং সম্মেলনের অন্তত দু’দিন আগে তাঁকে রোজ গার্ডেনে নিয়ে আসা হয়। মওলনা ভাসানীকে বোরকা পরিয়ে (মতান্বরে কম্বল জড়িয়ে) ঘোড়ার গাড়িতে করে রোজ গার্ডেনে নিয়ে যান সংগঠনটি দাঁড় করানোর অনুঘটক শওকত আলী। এরপর আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক এবং কারাবন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক করে নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করে। সম্মেলনে দলের নাম দেয়া হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরদিন ২৪ জুন ঢাকার আরমানিটোলা ময়দানে প্রকাশ্য জনসভার মাধ্যমে আওয়ামীলীগের যে আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু হয়, দীর্ঘ ৭১ বছরে তার বিরাম নেই। বহু ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে কখনও বিরোধী দলে,কখনও সরকারে থেকে দেশ গঠনে অনন্য অবদান রেখে চলেছে মাটি ও মানুষের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগের প্রধান কান্ডারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার ওপর ভর করে দক্ষকতার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ের প্রতিকূল পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করতে হয়েছেন। সবকিছু ছাপিয়ে মাটি ও মানুষের দল আওয়ামীলীগের কাছেই জনগণের প্রত্যাশা অনেক। ভাষা আন্দোলন, গণআন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ-স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ইতিহাসের পাতার পরতে পরতে একটিই নাম আওয়ামীলীগ। সর্বক্ষেত্রই বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগের হার না মানা নেতৃত্ব। আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের ত্যাগ তিতিক্ষা ও অঙ্গীকারদীপ্ত সংগ্রামী ভূমিকা ইতিহাস বিদিত। স্বভাবতই বাংলাদেশ নামক জাতিরাষ্ট্রের নির্মাতা আওয়ামীলীগের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সামান্য বিচ্যুতি কিংবা ব্যর্থতায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তারা। যে মহান নেতার হাতে গড়া ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের আদর্শের বলিয়ান আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে লাখো বাঙালি হাসতে হাসতে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন দেশমাতৃকার জন্য,প্রতিষ্ঠার ৭১বছর পর স্বভাবতই মানুষের প্রশ্ন জাগে সেই আদর্শ ও ত্যাগের মহিমা কী এখনও জাগ্রত আছে দলটির কোটি কর্মী-সমর্থকদের মাঝে? নাকি সময়ের বিবর্তনে আদর্শ থেকে অনেকটাই বিচ্যুতি ঘটেছে? এত বছর পর উপমহাদেশের প্রাচীন ও বৃহৎ এই ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলটির নীতি,আদর্শ, সাফল্য -ব্যর্থতার হিসাব মেলাচ্ছেন দেশের মানুষ। তবে প্রায় ৩৮ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন নেতৃত্ব দিয়ে, মৃত্যুভয়কে ছিন্ন করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ভাব-ধারার আস্হার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন এবং আওয়ামীলীগকে কোটি কোটি মানুষের প্রাণের সংগঠনে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। রোজ গার্ডেনে দলটি প্রতিষ্ঠালাভ করেছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’নামে। ১৯৫৫ সালের ২১ অক্টোবর আওয়ামীলীগের বিশেষ কাউন্সিলর অধিবেশনে ধর্ম নিরপেক্ষতা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দ প্রত্যাহার করে নতুন নামকরণ করা হয় ‘ আওয়ামীলীগ ‘, বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বাঙালি জাতির সকল মহতী অর্জনের নেতৃত্বে ছিল জনগণের প্রাণপ্রিয় সংগঠন আওয়ামীলীগ, যার মহানায়ক ছিলেন রাজনীতির মহামানব সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্হপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার মানবতা বিরোধী, যোদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। সপরিবারে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পূর্ণ করেছে। জাতীয় চারনেতা অর্থাৎ জেল হত্যার বিচার শেষ করেছে। বাংলাদেশকে কলঙ্ক মুক্ত করেছে আওয়ামীলীগ সরকার। দেশের উন্নয়নকাজের পাশাপাশি আইনের শাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার সমুন্নত রেখে আওয়ামীলীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক তথ্য প্রযুক্তির বাংলাদেশ, তরুণ প্রজন্মের বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়াই শেখ হাসিনা সরকারের মূল লক্ষ্য। সুতরাং আওয়ামীলীগ তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশার চাইতে প্রাপ্তিযোগ বেশি দিতে সক্ষম হয়েছে।

লেখক; কলামিস্ট, সাবেক সহসভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।