অসাম্প্রদায়িক চেতনায় লক্ষ্য পর্যটকের তীর্থস্থান কক্সবাজার

দিদারুল আলম সিকদার, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্য পর্যটকের সমাগমে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার। গতকাল ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার শেষে বিসর্জন অনুষ্ঠানে লাগো পর্যটকের শুভাগমনে কক্সবাজার তীর্থস্থান পরিণত হয়। গত ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ৪ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিমা বির্সজনের আয়োজন করেন কক্সবাজার জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ। সনাতন ধমাবলম্বীদের দুর্গাপূজার এই বিসর্জন অনুষ্ঠানে মিলন ঘটে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সহ নানান সম্প্রদায়ের।
কক্সবাজার সসুদ্র সৈকতে আয়োজিত মহামিলন মেলার বিসর্জন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশ। কক্সবাজারর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র গীতাপাঠ করেন কক্সবাজারর রাধা দামোদর মন্দিরের অধ্যক্ষ রাধা গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারি।

বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, “আমি মুসলম সম্প্রদায়ের হলেও আমি আমার ধর্ম থেকে শিক্ষা পেয়েছি আমার নবীজী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে মদিনায় আশ্রয় নিয়েছিলেন মদিনা বিজয় করার পরে তিনি মদিনার সমস্ত সম্প্রদায়ের সাথে যে মদিনার সনদ চুক্তি করেছিলেন তাতে তিনি লিখেছিলেন প্রতিটি ধর্মের মানুষ, প্রতিটি ধর্মকে সম্মান করুন, যদি বহি শত্রু আক্রমন করে প্রতিটি ধর্মের মানুষ একত্রিত হয়ে সেই আক্রমন রুখে দাঁড়াবে। আমার পূজারি ভাইয়েরা, আমার সেই আদর্শ থেকে আজকে আমার এই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজন কক্সবাজারে অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলায় আগমন।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম এই দেশে সম্প্রীতির ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার এখন আমাদের নেতা। শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সেই রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমি মুসলম হয়ে আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য আমরা সম্প্রীতির দেশ গড়বো। আমাদের লক্ষ্য আমরা এদেশের শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখবো। আমাদের স্বপ্ন আমরা এখানে স্বপ্নের আধুনিক নগরী গড়ে তুলবো। আমাদের লক্ষ্য আমরা এখানে ভাইয়ে-বোনে হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলে সম্প্রীতির দেশের স্থানে তুলে নিয়ে যাবো। মা দুর্গা আজকে ঘোড়ায় চড়ে বিদায় নিয়ে যাবে। ৪দিন ধরে মনের মাধুরী মিশিয়ে তাঁকে আমরা পূজা করেছি। তিনি আজকে অসুরদের বিনাশ করে বিজয়ের বেশে সমস্ত পৃথিবীকে বিদায় করে তিনি আজকে বিদায় নিয়ে যাবেন। তাঁর কাছে আমাদের কামনা, মুসলমানরা যেন মুসলমান সহ সকলকে ভালবাসে, হিন্দুরা যেন হিন্দু সহ সকলকে ভালবাসে। আমরা সকলে মিলে এদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় করি।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ কানিজ ফাতেমা আহমেদ, কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিমএম মাসুদ হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, সদর পূজা পরিষদের সভাপতি দীপক দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলা পাল, পৌর পূজা পরিষদের সভাপতি বেন্টু দাশ, সাধারণ সম্পাদক মিঠন কান্তি দে, চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, চকরিয়া পৌর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি টিটু বসাক, উখিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন শর্মা রনি প্রমুখ।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশ তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, Òকক্সবাজার জেলা দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এখানে আমরা পুরো বৎসরই আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে পালন করি নিরাপত্তার সাথে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা পালনে সরকার আমাদের যতেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার পৌর প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ, ট্যুারিস্ট পুলিশ বিভাগ, আইন-শৃংখলা বাহিনী সহ কক্সবাজারের সমস্ত সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ আমাদের সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

সর্বশেষে কক্সবাজার সরস্বতী বাড়ীর পুরোহিত স্বপন ভট্টচার্য্যরে মন্ত্র উচ্চারণের মধ্যদিয়ে সূর্য্যস্তের আগেই প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।