অভাবের সংসারে হার না মানা লামিয়ার এসএসসিতে জিপিএ-৫!

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) থেকেঃ- ইচ্ছে পড়াশোনা করে একজন ডাক্তার হবে। কাল হয়ে দাঁড়ালো অভাব অনটন।  বাবা লুৎফর মিয়া ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মাঝে মধ্যে সেই ভ্যানে সবজি বিক্রি ও বাড়তি আয়ের জন্য অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজও করেন তিনি। এভাবেই কোনোমতে টেনেটুনে চলে তাদের সংসার। এমন অভাবের সংসারে যেখানে দু’বেলা দুমুঠো খেতে পারতো না,কিনতে পারতো না বই-খাতা কলম, এমনকি সময়মতো দিতে পারতো না স্কুলের বেতন। সেই সকল অভাব অনটনকে হার মানিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে সুলতান উদ্দীন মেমোরিয়াল একাডেমি থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে ভ্যান চালকের মেয়ে লামিয়া।

লামিয়া আক্তারের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার টিকরা পাড়া। সে শ্রীপুর উপজেলায় গড়গড়িয়া মাস্টাটার বাড়ি পুরান বাজার এলাকায়়় বাবা-মায়ের সঙ্গে নাজমুলের বাসায় ভাড়া থাকেন।

লামিয়ার মা ফাতেমা আক্তার জানান, কষ্টের সংসারে একসময় কিছু লোক বলতো,মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির কাছে বিষয়টি বললে তারা তার বেতন মাফ করে দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বলে।

তিনি আরও জানান, মেয়ের ইচ্ছে বড় হয়ে একজন সে ডাক্তার হবে। প্রাথমিকে বৃত্তি পাওয়া লামিয়া ২০১৭ সালে জে এস সি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও লাভ করেছিল।

সুলতান উদ্দিন মেমোরিয়াল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সালাহ উদ্দিন মিলন মুঠোফোনে জানান, তাদের অভাবের সংসারের কথা বিবেচনায় নামেমাত্র বেতন নেয়া হতো। এর আগ, তার লেখাপড়ার সম্পুর্ন খরচটাই আমাদের প্রতিষ্ঠান বহন করেছে। শত দারিদ্রতার মাঝেও আজ লামিয়ার পরিবারের মুখে উজ্জল হাসি। তার অসাধারণ ফলাফলের জন্য গর্বিত সুলতান উদ্দীন শিক্ষা পরিবার।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ইচ্ছা শক্তি মানুষকে উচ্চ শিকড়ে নিয়ে যায়। তার উদাহরণ হলো, দরিদ্রতাকে হার মানিয়ে আপন যোগ্যতার যথাযথ প্রমাণ করেছে ভ্যান চালক লুৎফর মিয়ার মেয়ে লামিয়া। তার জন্য দোয়া ও শুভ কামনা রইল। খোঁজ নিয়ে সরকারি শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে সকল প্রকার সহযোগিতা করার হবে।