গাজীপুরের শ্রীপুরে মোশারফ হোসেন নামে এক গ্যারেজ ব্যবসায়ীকে ‘অস্ত্রসহ’ আটকের পর র্যাব সদস্যদের অবরুদ্ধ রাখার ঘটনায় থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। একজন ওয়ারেন্ট অফিসার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে অভিযানে আটক ১৪জনকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র্যাব। এরআগে, রোববার বিকেলের ওই ঘটনায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ ওই ১৪ জনকে আটক করে। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলভার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বরমীর বরামা ডুলি পাড়া এলাকায় মোশারফ হোসেন নামে একজনের কাছে অস্ত্র আছে এমন সংবাদে রোববার বিকেলের দিকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব উত্তরা ক্যাম্পের সদস্যরা। এসময় তাকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাকে গাড়িতে উঠানোর সময় স্থানীয় কয়েকজন গতিরোধ করে এবং র্যাবের গাড়িকে এক প্রকার অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় তাঁর স্বজনেরা ও এলাকাবাসী ‘মোশারফকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে’ বলে দাবি করে র্যাবের গাড়িটি অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা তাদেরও আটকে ফেলে। পরে র্যাবের আরও কয়েকটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেগুলোও জনতার রোষানলে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা কৌশল অবলম্বন করে অবরোধকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পুরো বরমী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযান শেষে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীসহ ১৪ জনকে আটক করে নিয়ে যান। সোমবার দুপুরে র্যাব আটককৃতদের শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান,’ বরমীর ওই ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। দুটি মামলায় ইতোমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলায় উল্লেখিত ৮ জন পলাতক রয়েছে। ২মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী একজন ওয়ারেন্ট অফিসার। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে। ‘
Leave a Reply