অনিদ্রায় চর্বি বিপাক বিগড়ে যায়

পেনসালভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির করা গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের বিপাক ক্রিয়ায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে ঘুমের অভাব।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব থাকলে খাওয়ার পরও ক্ষুধা নিবারণ হয় না এবং সেই খাবারের চর্বি হজম হওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসে।
‘লিপিড রিসার্চ’ নামক জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।
পেনসালভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ওরফেউ বাক্সটন বলেন, “ঘুমের অভাব দীর্ঘদিনের হলে তা মানুষের স্থূলকায় হওয়ার এবং ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।”
বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের ‘পোস্ট ডক্টরাল ফেলো’ কেলি নেস স্নাতক করার সময় বাক্সটন’স ল্যাবে এই গবেষণা করেছিলেন।
কেলি ও অন্যান্য গবেষকরা গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অংগ্রহণকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, তাদের সঙ্গে গল্প করে জাগিয়ে রেখেছেন, সাহস দিয়েছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এবং ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে সাহায্য করেছেন।
ঘুমের অনিয়ম হজম প্রক্রিয়ায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে তা জানতে অংশগ্রহণকারীদের চার রাত ঘুম থেকে বিরত রেখে উচ্চমাত্রায় চর্বি আছে এমন রাতের খাবার দেন গবেষকরা।
নেস বলেন, “খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু ছিল, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কারোরই তা শেষ করতে সমস্যা হয়নি। তবে তাতে ক্যালরি ছিল অনেক। আর পর্যাপ্ত ঘুমানোর আগে যে খাবার খেয়ে অংশগ্রহণনকারীরা সন্তুষ্ট ছিলেন, ঘুমের ঘাটতি তৈরি করার পর সেই একই খাবার খেয়ে তারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি।”
এরপর গবেষকরা তাদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখেন, ঘুমের অভাব তাদের ‘পোস্টপ্র্যানডিয়াল লিপিড রেসপন্স’ অর্থাৎ খাবার খাওয়ার পরে লিপিড প্রতিক্রিয়াতে পরিবর্তন এনেছে। ফলে খাওয়ার পর দ্রæত রক্ত থেকে লিপিড বেরিয়ে যাবে এবং তা ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
লিপিড হচ্ছে জীবন্ত কোষের গুরুত্বপূর্ণ যৌগ যা শর্করা ও প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত।
বাক্সটন বলেন, “এই ‘লিপিড’ বাষ্পীভুত হয়না, বরং শরীরে জমে থাকে।”
গবেষণাটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ছিল যা বাস্তব জীবনের সঙ্গে বেশ বেমানান।
নেস বলেন, “গবেষণায় আমরা স্বাস্থ্যবান এবং তরুণদের নিয়ে কাজ করেছি যাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কম। আর অংশগ্রহণকারীদের সবাই ছিলেন পুরুষ।”
তবে বাক্সটন বলেন, “এতকিছুর পরও শরীর চর্বি কীভাবে হজম করে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে এই গবেষণাটি।”
ছবি: রয়টার্স।